রোজারিওর 'লা হেরাস' নামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তারপর বার্সেলোনার যুব একাডেমি লা মাসিয়ায় এসে ফুটবল চর্চা। সেই সঙ্গে অঙ্ক, বিজ্ঞান, স্পোকেন কোর্সের মতো কিছু বিষয়ে পড়াশোনা। মেসি তার এক সাক্ষাৎকারে একবার বলেছিলেন হাইস্কুল পর্যন্ত পড়লেখা তার। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের চেনা ক্যাম্পাসগুলো সত্যিকার অর্থেই তার কাছে অচেনা।

বছর পঁয়ত্রিশে এসে সেই মেসিই কিনা এবার পা রাখতে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে! তবে বই-খাতা নিয়ে নয়, প্রিয় ফুটবল নিয়েই কাতার বিশ্বকাপের এক মাস কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি হয়ে থাকবেন মেসি এবং তার দল।

সেখানকার আবাসনে থেকেই সব ধরনের অনুশীলন করবেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। গতকাল কাতার বিশ্ববিদ্যালয় এক টুইট বার্তায় এই খবরটি নিশ্চিত করেছে। 'বিশ্বকাপের আবাসিক ক্যাম্প হিসেবে আমাদের ক্যাম্পাসকে বেছে নেওয়ায় আর্জেন্টিনা দলকে ধন্যবাদ।'

২১ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কাতার বিশ্বকাপে ৩২ দল ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের জন্য মোট ৪০টি বেস ক্যাম্প নির্বাচিত করা হয়েছে। অনেক দলই ফাইভ স্টার হোটেল বেছে নিয়েছে। তবে আর্জেন্টিনা দল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস বেছে নিয়েছে একটিই সুবিধার জন্য। আর সেটি হলো ঘুম থেকে উঠেই অনুশীলনের জন্য বাসে না উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে চলে যাওয়া যাবে।

এরই মধ্যে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সেখানকার সব সুযোগ-সুবিধা দেখে নিয়েছে। পাঁচতারকা হোটেলের মতো না হলেও সুযোগ-সুবিধায় কম কিছু নেই কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। আন্তর্জাতিক মানের একটি ফুটবল স্টেডিয়াম রয়েছে এই ক্যাম্পাসে। সেই সঙ্গে অনুশীলনের জন্য ফুটবল মাঠ, রানিং ট্র্যাকসহ অ্যাথলেটিকস স্পোর্টসের সব সুবিধা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াটিক সেন্টারে তিনটি সুইমিং পুল রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে অলিম্পিক পুল, ডাইভিং পুল এবং সাঁতার শেখার জন্য পুল। জিম, রিক্রেয়েশন সেন্টারসহ মিডিয়া সেন্টার, আইটি সেন্টার- সব কিছু রয়েছে এক ক্যাম্পাসে। প্রায় দুই হাজার একরজুড়ে অবস্থিত এই ক্যাম্পাসে আর্জেন্টিনা ছাড়াও স্পেন দল তাদের ক্যাম্প করতে চেয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্পেন দলের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেনি।

গ্রুপ ‘সি’-তে আর্জেন্টিনা নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে ২২ নভেম্বর সৌদি আরবের বিপক্ষে লুসেইল স্টেডিয়ামে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মেসিদের জন্য এরই মধ্যে অনুশীলন মাঠে ফ্লাডলাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। টার্ফের সঙ্গে অন্য একটি মাঠে প্রাকৃতিক ঘাসে মোড়ানো হয়েছে। ক্যাম্পাসের সবুজের ঘেরায় সাজানো হয়েছে ফুলের বাগানও। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে তাই নিশ্চয়ই খারাপ লাগবে না মেসির।