সল্টলেকের আউটার স্টেডিয়ামে রোববার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় অনুশীলন শুরু করে আবাহনী লিমিটেড। ভেন্যুতে যাওয়ার পর স্থানীয় সাংবাদিকের ভিড়। তারা খুঁজে বেড়ান ড্যানিয়েল কলিনড্রেস-রাফায়েল অগাস্তোকে।

রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা কোস্টারিকান ফরোয়ার্ড কলিনড্রেস আবাহনীর বড় তারকা। ব্রাজিলিয়ান রাফায়েলের প্রতি কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কারণ তিনি আইএসএলে খেলেছিলেন চেন্নাইনের হয়ে। জিতেছিলেন দুটি শিরোপাও। ৩১ বছর বয়সী এ ব্রাজিলিয়ানের সাক্ষাৎকারও নিয়েছে কলকাতার কয়েকটি মিডিয়া।

নতুন শক্তির এই আবাহনীকে চেনার প্রবল কৌতুহল কলকাতার। এএফসি কাপ বাছাইয়ের প্লে-অফে মোহনবাগান ও আবাহনীর মধ্যকার আগামীকালের ম্যাচ নিয়ে বাড়তি একটা যে উম্মদনা কাজ করছে তা বেশ টের পাচ্ছেন আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু। টেলিফোনে সমকালকে জানান, দুই বাংলার মধ্যে খেলা নিয়ে সবারই বাড়তি আকর্ষণ থাকে। উন্মাদনা থাকাটা তো স্বাভাবিক।

শ্রীলঙ্কার ক্লাব ব্লু স্টারের বিপক্ষে ম্যাচে মোহনবাগানকে সমর্থন দিতে মাঠে এসেছিলেন ৩০ হাজারেরও বেশি দর্শক। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সেই ম্যাচে মোহনবাগান জিতেছিল পাঁচ গোলে। এবার প্রতিপক্ষ এ পার বাংলার দল আবাহনী লিমিটেড।

কলকাতার জনপ্রিয় এক দৈনিকের সাংবাদিক সমকালকে জানান, গতকাল পর্যন্ত এএফসি কাপের এ ম্যাচের জন্য ৬৫ হাজার ধারণক্ষমতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ৪০ হাজার টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়েছে। দুই বাংলার ফুটবল লড়াই ঘিরে কতটা উন্মাদনা বইছে ওপার বাংলায়, তা তো টিকিট বিক্রির সংখ্যাতেই বলে দিচ্ছে।

শনিবার কলকাতায় যাওয়ার পরই মারিও লেমোসের দলের পেছনে ছুটতে থাকে স্থানীয় মিডিয়াগুলো। তিন বছর আগে ফুটবলে ভারত-বাংলাদেশ লড়াই নিয়ে যে উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল কলকাতায়, সেই রকম না হলেও দুই দেশের দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের লড়াই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বেশ। জাতীয় দলের ম্যানেজার থাকাকালীন ২০১৯ সালের অক্টোবরে কলকাতায় গিয়েছিলেন রুপু। এবার ক্লাব আবাহনীর হয়ে একই দায়িত্বে।

সেই সময় আর এখনকার উন্মাদনা প্রসঙ্গে রুপুর ব্যাখ্যা, ‘সেটা ছিল জাতীয় দলের ম্যাচ, বিশ্বকাপ বাছাইয়ের খেলা। এবার ক্লাব পর্যায়ের লড়াই। তারপরেও আমার কাছে মনে হয়েছে দুই বাংলার ফুটবল ম্যাচ ঘিরে আগের সেই রোমাঞ্চ এখনও আছে।’

করোনার পর কলকাতায় ফিরেছে ফুটবলের সেই জোয়ার। এটা এমন একটা ম্যাচ যে জিতবে তারা চলে যাবে গ্রুপ পর্বে। আবার গ্রুপ 'ডি'র খেলাগুলো হবে এই যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। সেখানে আগে থেকেই আছে বাংলাদেশের লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস, ভারতের গোকুলাম কেরালা ও মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টস।

মোহনবাগান নিজেদের মাঠে দর্শক হতে চাইবে না, আবার আবাহনীও প্রতিবেশী দেশটির মাঠে খেলার সুযোগ হারাতে চাইছে না। আবাহনী ম্যানেজার সত্যজিৎ দাসু রুপু তো বলেই দিলেন তারা জয়ের জন্য কলকাতায় গিয়েছেন, ‘আমার কাছে এটা অঘোষিত ফাইনাল। কারণ যে জিতবে সে চলে যাবে গ্রুপ পর্বে। আমরা এখানে জিততে এসেছি। জয়ের জন্য মনপ্রাণ উজাড় করে খেলব আমরা।’