গত বছরের এপ্রিলে কলকাতায় গিয়েছিলেন পায়ের অস্ত্রোপচার করাতে। করোনাভাইরাসের কারণে একাই ভারতে চিকিৎসা করতে যাওয়া আবাহনীর ফরোয়ার্ড নাবীব নেওয়াজ জীবন বড় ধরনের বিপদে পড়ে যান। তার পাশে থাকার মতো কেউ ছিল না। সেই সময় জীবনের পাশে এসে দাঁড়ান ভারত জাতীয় দলের ডিফেন্ডার প্রীতম কোটাল।

অপারেশনের দিন থেকে শুরু করে প্রতিদিনই জীবনের শুশ্রূষা করেছিলেন প্রীতম। করোনাভাইরাসের কারণে সেই সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশ পথ বন্ধ ছিল। তখন জীবনের ঢাকায় ফেরাটা কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ দলের এই ফরোয়ার্ডকে ঢাকায় ফেরার জন্য দৌড়াদৌড়ি করেছিলেন প্রীতিম।

শেষ পর্যন্ত জীবনকে সড়ক পথে বাংলাদেশের পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। সেই সময় থেকেই প্রীতমের সঙ্গে বন্ধুত্বটা আরও গাঢ় হয় জীবনের। দু’জনের মধ্যে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ থাকত। কিন্তু আগামীকাল দুই বন্ধু হয়ে যাবেন একে অপরের শত্রু। এএফসি কাপ বাছাইয়ের প্লে-অফ ম্যাচে আগামীকাল প্রীতমের দল মোহনবাগানের মুখোমুখি হবে জীবনের আবাহনী। কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে এ ম্যাচটি দুই তারকার কাছে বন্ধুত্বের চেয়ে বড় পেশাদারিত্ব।

করোনার কারণে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তির পরিবর্তে এবার এএফসি কাপের খেলাগুলো হচ্ছে এক ভেন্যুতে। তাই মঙ্গলবার মোহানবাগান ও আবাহনীর মধ্যকার ম্যাচের জয়ী দল পাবে গ্রুপ পর্বের টিকিট। সেই টিকিটের লড়াইয়ের আগে আলোচনায় জীবন ও প্রীতম। গত বছর কলকাতায় চিকিৎসা করাতে যাওয়ার পর জীবন-প্রীতমের সম্পর্ক এখন দাদা-ভাইয়ের মতো। সুযোগ পেলে প্রীতমের বাড়িতে যেতে পারেন জীবন।

তবে বাইরের সম্পর্কটি যত মধুরই হোক, সল্টলেকের সবুজ গালিচায় আগামীকাল মোহনবাগান অধিনায়ক প্রীতম ও আবাহনীর তারকা নাবীব কিন্তু একে অপরকে ছাড় দিতে নারাজ। শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টারের বিপক্ষে মোহনবাগান জেতার পর প্রীতম তো রাতেই জীবনকে মেসেজ পাঠিয়েছেন, 'দেখা হবে'। জীবনও উত্তর দিয়েছেন, 'দেখা হবে, দাদা'। সেই দেখায় জিততে মরিয়া দু'জন।