বাংলাদেশের ফুটবলে প্রবাসীদের যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে। নিজের প্রতিভাগুণে ডেনমার্ক প্রবাসী জামাল ভূঁইয়া জায়গা করে নিয়েছেন ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে। প্রথম প্রবাসী ফুটবলার হিসেবে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়ানো এ মিডফিল্ডার তো এখন দেশের ফুটবলের পোস্টারবয়। জামালের পর দ্বিতীয় প্রবাসী ফুটবলার পেতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আট বছর। বসুন্ধরা কিংসের হাত ধরে ফিনল্যান্ড প্রবাসী তারিক রায়হান কাজীকে পায় বাফুফে। তারিকের পর প্রবাসী ফুটবলারের তালিকা লম্বা। দেড় বছরের মধ্যে ১০-১১ জন প্রবাসী ফুটবলার এখন বাংলাদেশে। বিভিন্ন ক্লাবে খেলছেন ওবায়দুর নবাব-মাহাদী খানরা। 

দেশের ফুটবলে প্রবাসী ফুটবলারের বাজার এতটাই তুঙ্গে, প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলের মধ্যবর্তী দলবদলে চারজনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব ও বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাব। মোহামেডানে নাম লিখিয়েছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী নাবিল আরিফ ইবনে রহিম এবং আব্দুল মুহাইমিন হক। আর পুলিশ এফসি নিয়েছে ইংল্যান্ডেরই সাকলাইন আহমেদ চৌধুরীকে। দলবদলের শেষ দিনে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব দলে নিয়েছে ইংল্যান্ড প্রবাসী স্যামুয়েল হাডসনকে।

জাতীয় দলে বড় সমস্যা স্কোরিং। ভালোমানের ফরোয়ার্ড না পাওয়ায় অনেক দিন থেকেই প্রবাসী ফুটবলারের সন্ধান করে আসছিল বাফুফে। ঘরোয়া ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার পথে হাঁটা শুরু করে ক্লাবগুলো। বিশেষ করে বসুন্ধরা কিংসই এ দিকটার ওপর জোর দেয় বেশি। তাদের হাত ধরে তারিক রায়হান কাজী, যিনি ইতোমধ্যে জাতীয় দলে খেলেছেন। কাতার প্রবাসী ওবায়দুর নবাব তিনিও জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন। কানাডা প্রবাসী রাহবার খান, ফ্রান্স প্রবাসী তাহমিদ ইসলামও বাংলাদেশ দলে ডাক পান। গত বছরের সেপ্টেম্বরে চার জাতি টুর্নামেন্টে খেলেছিলেন রাহবার খান। অনূর্ধ্ব-২৩ দলে সুযোগ পান ইংলিশ প্রবাসী ইউসুফ জুলকারনাইন। তবে জামালের সঙ্গে এখন পর্যন্ত টিকে আছেন কেবল তারিক কাজী। বাকিরা কোচদের মন জয় করতে পারেননি। তবে নবাব-রাহবাররা ভালো পারফরম্যান্স করলে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে সুযোগ আসতে পারে। এখন তারা ক্লাব পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণের চেষ্টা করছেন। 

প্রবাসী ফুটবলারদের মধ্যে ১২ জন বিভিন্ন ক্লাবে খেলছেন। নতুন চার ফুটবলার ছাড়া বসুন্ধরা কিংসের হয়ে ফিনল্যান্ডের তারিক কাজি এবং নরওয়ের মাহাদী খান খেলছেন। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে কানাডা প্রবাসী রাহবার খান, ধারে বসুন্ধরা কিংস থেকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রে ওবায়দুর রহমান নবাব। সুইডেন প্রবাসী জোসেফ নূর রহমান ফর্টিস স্পোটিংয়ের হয়ে খেলছেন। ইংল্যান্ড প্রবাসী ইউসুফ জুলকারনাইন এবং ফ্রান্স প্রবাসী তাহমিদ ইসলাম ঘরোয়া কোনো ক্লাবে খেলেননি।

ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় প্রবাসীদের সংখ্যাটা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত বছরের মে মাসে প্রিমিয়ার লিগে এক ম্যাচে তিন প্রবাসী ফুটবলারকে দেখেছিল সবাই। বসুন্ধরা কিংস ও ব্রাদার্স ম্যাচে খেলেছিলেন তারিক কাজী, মাহাদী খান ও জোসেফ নূর রহমান। তারা এখনও আছেন দেশের ফুটবলে। তবে এই মৌসুমে যেন প্রবাসী ফুটবলারের বাজার বসেছে। মধ্যবর্তী দলবদলে চার প্রবাসী ফুটবলারের অন্তর্ভুক্তি দেশের ফুটবলের জন্য ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন ফুটবলবোদ্ধারা। তবে এসব প্রবাসী বাংলাদেশে এসেছেন লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়াতে। অবশ্য তাদের জাতীয় দলে খেলতে হলে পারফরম্যান্স করতে হবে বলে জানান বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ, 'বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি প্লেয়ার যারা রয়েছে, এবার তো মধ্যবর্তী দলবদলে দুই থেকে তিনজন খেলোয়াড় যোগ দিয়েছে বিভিন্ন ক্লাবে। বাফুফে এটা নিশ্চিত করে বলতে পারে যে, যারা পারফর্ম করছে তাদের মধ্য থেকে সেরাদের নিয়েই বাংলাদেশ জাতীয় দল গঠন করা হবে। অতীতেও ভালো পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই জাতীয় দল গঠিত হয়েছিল। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটবে না।'