ক্ষোভ আর অভিমানের গল্প বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাতায় পাতায়। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া, অবসর নেওয়া, আইপিএলে খেলা কিংবা না খেলা নিয়ে ক্রিকেটার এবং বোর্ডকে প্রায়ই মুখোমুখি দাঁড়াতে দেখা যায়। অভিমানের পাল্লা হালকা করতে ক্রিকেটারদের সময় ফুরিয়ে গেছে কিনা তা অনুধাবন করে সেচ্ছায় সরে যেতে বললেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

কিন্তু ওই স্বেচ্ছা অবসরের পথ বেছে নিলেও থেকে যায় রাগ-অভিমান। বিষয়টি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে- বিসিবি যখন চাইবে স্বেচ্ছায় সরে যেতে হবে তখনই!

জাতীয় দল থেকে ঘটা করে মাশরাফি মুর্তজার বিদায় নেওয়া হয়নি। বোর্ড তাকে বিদায় দিতে চেয়েছিল। বিদায়ী ম্যাচ আয়োজন করতে চেয়েছিল। মাশরাফি তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে দল থেকে বাদ দিতে হয়েছে। নির্বাচক-কোচের ওপর এ নিয়ে অভিমানের শেষ নেই ম্যাশের। বিভিন্ন সময় বিষয়টি নিয়ে মন্তব্যও করেছেন সাবেক অধিনায়ক।

ওদিকে টেস্ট দল থেকে বোর্ডকে না জানিয়ে অবসর নিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ। বিষয়টি ভালো লাগেনি বোর্ডের। লাল বলের ক্রিকেট থেকে বাদ পড়েছিলেন রিয়াদ। বাধ্য হয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে তাকে দলে ফিরিয়েছিল বিসিবি। দেড়শ’ রানের এক ইনিংস খেলে সম্মানের সঙ্গে দল থেকে সরে যান তিনি। যা ভালো লাগেনি বোর্ডের।

টি-২০ থেকে ছয় মাসের স্বেচ্ছা অবসর নিয়েছেন তামিম ইকবাল। ওয়ানডে ও টেস্টে মনোযোগ দিতে চান তিনি। বোর্ডের সঙ্গে আলাপ করেই নিয়েছেন সিদ্ধান্ত। তবে তার অবসরে বিসিবি’র পূর্ণ সমর্থন না থাকায় ছয় মাসের বিশ্রামে গেছেন এই ওপেনার। বোর্ড, তামিম এমনকি ভক্তরাও জানেন তামিম আর টি-২০ ফরম্যাটে ফিরবেন না।

বোর্ডের নজর এবার মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহর দিকে। বোর্ড সভাপতি পাপন তাদের স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। টিম ম্যানেজমেন্টের টি-২০ পরিকল্পনায় মুশফিক পুরোপুরি নেই। বড় জোর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া হতে পারে তাকে। টি-২০ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহর জন্যও একই কথা প্রযোগ্য।

তাদের স্বেচ্ছা অবসরের পথ দেখিয়ে রোববার বিসিবি সভাপতি পাপন সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা চাই না তারা মন খারাপ করে যাক, আমরা চাই তারা হাসিমুখে যাক। নিজেরা সিদ্ধান্ত নিক, যত তাড়াতাড়ি তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ততই ভালো। নাহলে, একটা সময় আসবে, যখন আমাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

এই সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত যেন বোর্ডের চাওয়া মতোই নিতে হবে। যেমন- সাকিব আল হাসান টেস্ট খেলতে চান না। ক্রিকেট অঙ্গনে এটা কার না জানা। কিন্তু তিন ফরম্যাটে বোর্ড, কোচিং স্টাফ ও অধিনায়ক তাকে দলে চান। বোর্ডও তাকে আটকানোর নানান চেষ্টা করে যাচ্ছে। পাপন যেমন বলেছেন, ‘সাকিবের সঙ্গে বসতে হবে। ওর বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়। তিন অধিনায়কই ওকে দলে চায়। ওর সঙ্গে কথা বলে মনে হয় সব ফরম্যাটে খেলবে, সময় হলে আবার পাওয়া যায় না।’