যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যখন ঢাকায় জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান নিয়ে ব্যস্ত দেশের প্রান্তিক ক্রীড়া সংগঠকরা তখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন কক্সবাজারে সম্মেলন করার। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও ক্রিকেটের কাউন্সিলররা যোগ দেবেন ফোরাম আয়োজিত সে অনুষ্ঠানে। ১২ ও ১৩ মে বঙ্গবন্ধুর ক্রীড়া নীতি এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অবদান পর্যালোচনার অন্তরালে জেলা পর্যায়ের খেলাধুলা এগিয়ে নেওয়ার রূপরেখা তুলে ধরা হবে বলে জানান ফোরাম সভাপতি আ জ ম নাছির। 

দুই দিনের সেমিনারে বিশিষ্ট দুই অতিথি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব শাহেদ রেজার কাছে বেশ কিছু দাবি-দাওয়া তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে জেলার ক্রিকেট লিগ নিয়মিত করতে আর্থিক অনুদান বৃদ্ধি, জেলায় ক্রিকেট অবকাঠামো গড়ে তোলা, মাঠ পরিচর্যা এবং ক্রিকেট খেলার সামগ্রী বরাদ্দ চাওয়া হবে নাজমুল হাসান পাপনের কাছে। ফোরামের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, ৬৪ জেলার ক্রিকেট কাউন্সিলররা বিসিবি সভাপতির কাছে নিজেদের চাহিদাগুলো তুলে ধরবেন।

জেলার কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত হন বিসিবির বিভাগীয় ১২ জন পরিচালক। এক নম্বর ক্যাটাগরি থেকে সবচেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হলেও ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকেন ক্লাব থেকে নির্বাচিত পরিচালকরা। যে কারণে এত বছরেও আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গড়ে ওঠেনি। 

গত বছর নির্বাচনী এজিএম শেষে বিসিবি সভাপতি পাপন বলেছিলেন, আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গড়ে তোলার কাজ এগিয়েছে। সিলেট বিভাগকে পাইলট প্রজেক্ট ধরে কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন তারা। পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা এবং বরিশালেও আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গড়ে তোলা হবে। যদিও পাইলট প্রজেক্ট সিলেটকেও বিকেন্দ্রীকরণ করার উদ্যোগ চোখে পড়েনি। সিলেটে বিসিবির সব ধরনের খেলাধুলা পরিচালিত হয় কেন্দ্র থেকে। চট্টগ্রামে দুটি টেস্ট ভেন্যু, কপবাজারে শেখ কামাল ক্রিকেট কমপ্লেপ থাকার পরও বিকেন্দ্রীকরণ করা হচ্ছে না। 

বিসিবির একজন পরিচালক জানান, ফোরামের সেমিনারে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলবেন পাপন। কাউন্সিলররাও পরোক্ষে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার ওপর জোর দেবেন বলে জানান ফোরাম নেতারা। চট্টগ্রামের ক্রীড়া সংগঠক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, 'ফোরামের এবারের সেমিনারে ক্রিকেট কাউন্সিলররা নিজেদের সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরবেন। লিগ হওয়া আয়োজন সাপেক্ষে বিসিবির অনুদানের টাকা যাতে দ্রুততম সময়ের ভেতরে পাওয়া যায় সে ব্যবস্থা নিতে বোর্ড সভাপতিকে অনুরোধ করা হবে। এজিএমে ১০ লাখ টাকা করে অনুদান চাওয়া হয়েছিল। সে বিষয়ে কথা হবে। মাঠ প্রস্তুত করতে রোলার, রোপ, ম্যাট এবং ক্রিকেট খেলার কিছু সামগ্রী চাওয়া হতে পারে।'

ফোরাম সভাপতি আ জ ম নাছির জানান, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বিগত সভায় জেলার ক্রিকেটের অর্থ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী বছর থেকে অনুদান দুই লাখ থেকে বাড়িয়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা করা হতে পারে। 

ফোরামের সেমিনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'জেলার ক্রীড়ার উন্নয়ন নিয়ে কথা হবে। একই মাঠে সব খেলা হয়। প্রতিটি জেলায় সীমিত পরিসরে ক্রিকেট অবকাঠামো গড়ে তোলা যায় কিনা সে বিষয়ে আলোচনা হবে। খেলোয়াড় তৈরি হয় জেলাগুলোতে। সেখান থেকে বাছাইকৃত খেলোয়াড়দের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে নিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে। জেলায় নিয়মিত লিগ হলে, বয়সভিত্তিক খেলা হলে কোয়ালিটি খেলোয়াড় বাড়বে। অবকাঠামো ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে জেলায় খেলা নিয়মিত করা সম্ভব হয় না। এই দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করা গেলে ক্রিকেট লাভবান হবে। বিসিবি সভাপতি কাউন্সিলর এবং সাধারণ সম্পাদকদের মতামত শোনার পর নিশ্চয়ই ভালো কোনো উদ্যোগ নেবেন।' 

যদিও জেলার ক্রিকেট কর্মকর্তারা মনে করেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে বিসিবির যোগাযোগ এবং সম্পৃক্ততা বাড়ালে ক্রিকেটের উন্নতির পথ সুগম হবে এবং প্রতিটি টুর্নামেন্ট বা লিগ সুশৃঙ্খলভাবে করা সম্ভব হবে। ফোরামের সেমিনারে এ বিষয়টি তুলে ধরতে চান সংগঠকরা।