সড়ক দুর্ঘটনায় অজি কিংবদন্তি অ্যন্ড্রু সাইমন্ডস নিহত হয়েছেন। ৪৬ বছর বয়সী এই তারকা ছিলেন দুর্দান্ত এক অলরাউন্ডার। টেস্ট ক্যারিয়ার খুব একটা এগোয়নি তার। খেলেছেন মাত্র ২৬ ম্যাচ। তবে ১৯৮ ওয়ানডে ম্যাচ দিয়েই নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। 

দুটি বিশ্বকাপ জিতেছেন মিডল অর্ডার ব্যাটার এবং মিডিয়াম ও স্পিন বোলিং করতে পারা সাইমন্ডস। ফিল্ডিংয়ে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। সাবেক ক্রিকেটার জন্টি রোডসের মতে, ফিল্ডিংয়ের হিসেব ধরলে তিনি তর্কসাপেক্ষে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার। 

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৫ হাজার ৮৮ রান করেছেন তিনি। উইকেট নিয়েছেন ১৩৩টি। দারুণ কিছু মুহূর্ত ক্রিকেটকে উপহার দিয়েছেন অ্যান্ড্রু। তার ৪০ বছর পূর্তিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ক্যারিয়ারের সেরা পাঁচ পারফরম্যান্স তুলে ধরে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিল। তার ক্যারিয়ারের ওই সেরা পাঁচ তুলে ধরা হলো: 

১৪৩* পাকিস্তান, নিউ ওয়ান্ডারার্স-২০০৩

মিডল অর্ডারে ব্যাট করে দেড়শ' ছাড়ানো বেশ কিছু ইনিংস খেলেছেন সাইমন্ডস। যার শুরুটা পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৪৩ রানের ইনিংস দিয়ে হয়। ২০০৩ বিশ্বকাপে শেন ওয়ার্নের কেলেঙ্কারিতে অস্ট্রেলিয়া পর্যদুস্ত ছিল। সব ভুলিয়ে দিতে সাইমন্ডস খেলেন দুর্দান্ত ওই ইনিংস। 

তার আগের সাত ইনিংসে তিনি মাত্র ৬৯ রান করেন। একাদশে তো বটেই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তার জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এরপর ওই ম্যাচে ৮৬ রানে ৪ উইকেট হারানো দলকে একাই টানেন তিনি। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, শোয়েব আখতার ও শহীদ আফ্রিদির মতো বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ১২৫ বলে ১৮ চার ও দুই ছক্কায় সাজান ইনিংস। দলকে এনে দেন ৮ উইকেটে ৩১০ রান।       

১৫৬ ইংল্যান্ড, মেলবোর্ন-২০০৬

টেস্টে অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের প্রথম সেঞ্চুরি। মেলবোর্নে তিনি খেলেছিলেন ১৫৬ রানের ইনিংস। অ্যাসেজের চতুর্থ টেস্টে তার ওই ইনিংসের আগে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলে অজিরা। লক্ষ্য তখন ইংল্যান্ডকে ধবলধোলাই। প্রথম ইনিংসে ১৫৯ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। অজিরা ৮৪ রানে হারায় ৫ উইকেট। সবচেয়ে কাছের বন্ধু ম্যাথু হেইডেনের সঙ্গে দুর্দান্ত জুটি গড়েন সাইমন্ডস। তার ওই ইনিংসের সঙ্গে হেইডেন খেলেন ১৫৩ রানের ইনিংস। দল জয় পায় ইনিংস ও ৯৯ রানে। 

১৬২* ভারত, সিডনি-২০০৮

অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের টেস্ট সেঞ্চুরি মাত্র দুটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫৬'র দুই বছর পর ভারতের বিপক্ষে তিনি খেলেন ১৬২ রানের ইনিংস। বিতর্ক আছে ওই ইনিংস নিয়ে। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ক্যাচ ধরা নিয়ে বিতর্ক থাকায় ওই যাত্রায় বেঁচে যান অ্যান্ড্রু। ১৩৪ রানে ৬ উইকেট হারানো দলকে বাঁচান দুর্দান্ত ইনিংস খেলে। 

১৫১ শ্রীলঙ্কা, সিডনি-২০০৬

দল বিপদে মানেই অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের কারিশমা। সিডনিতে শ্রীলঙ্কার চ্যালেঞ্জ হোয়াইটওয়াশ এড়ানো। পথটা গুছিয়ে এনেছিল তারা। তৃতীয় ওভারে ১০ রানে তুলে নিয়েছিল অজিদের ৩ উইকেট। সাইমন্ডস ক্রিজে এসে রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে এনে দেন ৫ উইকেটে ৩৬৮ রানের সংগ্রহ। পন্টিং খেলেন ১২৪ রানের ইনিংস। সাইমন্ডস লঙ্কান বোলারদের বেধড়ক পিটিয়ে ১২৭ বলে তিন ছক্কা ও ১৩ চারে ১৫১ রান করেন। বল হাতে নেন দুই উইকেট। দাঁড়াতেই পারেনি শ্রীলঙ্কা। 

৭২ এবং ৫০-৩ দক্ষিণ আফ্রিকা, মেলবোর্ন-২০০৫

ওয়ানডের বিধ্বংসী অলরাউন্ডারের টেস্ট ক্যারিয়ার দাঁড়ায়নি। কোনদিন দাঁড়াবে এই আশাও করা হয়নি। তবে যা এক-আধটু সুযোগ তিনি পেয়েছেন, দেখিয়েছেন যে টানা সুযোগ পেলে হতাশ করতেন না। মেলবার্নে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে তার ক্যারিয়ার থমকে যেতে বসেছিল। প্রথম ইনিংসে গোল্ডেন ডাক মেরেছিলেন। তবে বল হাতে ৫০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিলেন। পরে ব্যাট হাতে করেছিলেন ৭২ রান। ২০০৪ সালে টেস্ট অভিষেক হওয়া সাইমন্ডসের টেস্ট ক্যারিয়ার বাঁচিয়ে দেয় ওই পারফরম্যান্স।