চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন ভাগ হয়ে গেছে। প্রথম সেশন বাংলাদেশ পক্ষে রাখে। দ্বিতীয় সেশনের পুরোটাই কব্জায় নেয় লঙ্কানরা। শেষ সেশনের শুরুতে দুই উইকেট হারালেও শেষটায় সাবলীলভাবে খেলেছে তারা। এর মধ্যে ব্যাট হাতে কর্তৃত্ব করেছেন অ্যাঞ্জেল ম্যাথুস। তার সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে ২৫৮ রান তুলে দিন শেষ করেছে লায়ন্সরা। ম্যাচের নাটাই রেখেছে হাতে। 

উপমহাদেশের উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং মানে বিরাট পরীক্ষা। টস জিতে ব্যাটিং নিতে তাই ভুল করেনি লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে। চট্টগ্রামের ফ্ল্যাট উইকেটে প্রথম দুই ঘণ্টা পেসারদের জন্য সুবিধা ছিল। কিন্তু খালেদ আহমেদ-শরিফুল ইসলাম তা নিতে পারেননি। তবে স্পিনার নাঈম হাসান দুই উইকেট নিয়ে মধ্যাহ্নভোজটা স্বস্তির করেন। 

ওপেনার দিমুথ করুনারত্নে ফিরে যান ৯ রান করে। অন্য ওপেনার ওসাদে ফার্নান্দো করেন ৩৬ রান। ৬৬ রানে দুই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় সেশনে কুশল মেন্ডিস ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস দারুণ ব্যাটিং করে ৯২ রান যোগ করেন। এরপর শেষ সেশনের শুরুতে মেন্ডিস ফিরে যান ৫৪ রান করে। তাইজুল তাকে ক্যাচে পরিণত করেন। পরেই ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে (৬) ফিরিয়ে দিন পক্ষে আনেন সাকিব। 

দারুণ ইনিংস ও জুটি গড়ে স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন ম্যাথুস। তার সঙ্গী চান্দিমাল। ছবি: এএফপি

শ্রীলঙ্কা তখন ১৮৩ রানে চতুর্থ উইকেট হারিয়েছে। শেষ বেলায় পেসার-স্পিনাররা আর সুবিধা করতে পারেননি। ম্যাথুস-দিনেশ চান্ডিমাল হতাশা উপহার দেন বাংলাদেশকে। তারা গড়েন ৭৫ রানের জুটি। ম্যাথুস দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন ১১৪ রান নিয়ে। তার সঙ্গী চান্দিমাল ৩৪ নামে নামবেন। 

প্রথমদিন লঙ্কানদের চার উইকেটই নিয়েছেন স্পিনাররা। দুই পেসার নিয়ে নামলেও তারা সুবিধা আদায় করতে পারেননি। মুমিনুল যেন তাসকিন-এবাদতকে মিস করছিলেন। ইনজুরিতে দলে না থাকা মেহেদি মিরাজের অভাব নাঈম হাসান পূরণ করেছেন। তবে তিনি ছিলেন বেশ খরুচে। ১৬ ওভারে ৪.৪০ গড়ে ৭১ রান দিয়েছেন তিনি। পূর্ণ ফিটনেস ছাড়া মাঠে নামলেও সাকিব ১৯ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নিয়েছেন এক উইকেট।

চট্টগ্রাম টেস্ট, প্রথম দিন

শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস: ২৫৮/৪, ওভার-৯০। 

ওসাদে ফার্নান্দো-৩৬, করুনারত্নে-৯, কুশল মেন্ডিস-৫৪, ম্যাথুস-১১৪*, ডি সিলভা-৬, চান্দিমাল-৩৪*। 

বাংলাদেশ বোলিং:  শরিফুল-১৩-৩৮-০, খালেদ-১১-৪৫-০, নাঈম হাসান-১৬-৭১-২, তাইজুল-৩১-৭৩-১, সাকিব-১৯-২৭-১।