প্রথম বাদ্যটা বোধহয় লিওনেল মেসিই বাজিয়েছিলেন। ২০২১ সালের আগস্টের দিকে দিনে দিনেই বার্সা ছেড়ে প্যারিসে যোগ দেন তিনি। অথচ আগের বছর ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট বার্তামেউর সঙ্গে মনোমালিন্য ভুলে বার্সাকে নিয়েই নতুন করে এগোতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরের বার লা লিগার আর্থিক নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়ে আর থাকা হয়নি বার্সায়। কাতালান ক্লাবটির কাছে মেসি ছিলেন স্পেশাল ব্র্যান্ড। তার জন্যই তো লাখো-কোটি সমর্থক বছরের পর বছর সমর্থন জুগিয়েছে বার্সাকে। এরপর যখন মেসি পিএসজিতে যান, রাতারাতি তাদের সমর্থক বেড়ে নতুন চূড়া স্পর্শ করে। অবশ্য বদলটা মেসি চাননি, বাধ্য হয়েই তাকে বদলাতে হয়েছিল। 

এবার এই সময়ের আরেক বড় তারকা রবার্ট লেভানডস্কিও চাইছেন নিজের সেকেন্ড হোম খ্যাত বায়ার্ন মিউনিখ ছাড়তে। এরই মধ্যে বলেও দিয়েছেন তিনি আর চুক্তির টেবিলে বসছেন না। একই পথের পথিক পিএসজির প্রাণভোমরা কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্রায় সাত বছর জুভেন্তাসে কাটানো পাওলো দিবালাও চোখের জলে আঁকলেন গোধূলি লগ্নটা। আর ১৭ বছর যে জুভ জার্সি গায়ে রক্ষণ দেয়াল সামলেছেন, সেই জর্জিও চিয়েল্লিনোও চলে যাচ্ছেন বাঁধন ছেড়ে।

ইউরোপিয়ান ফুটবলে ওয়ানম্যান ক্লাব বলে একটা কথা আছে। যেটা এক সময় মেসিকে ঘিরেই বেশি শোনা যেত। ধারাভাষ্যে, টকশো কিংবা ফুটবল বিশ্নেষণে ফুটবলের রথী-মহারথীরা প্রায়ই বলতেন মেসি বার্সার জন্যই জন্ম হয়েছেন। তার ক্লাব একটাই- বার্সা। পরে যদিও সেই সুতোয় চিড় ধরে। এরপর লেভানডস্কি, এমবাপ্পেদের নিয়েও শোনা যেত তারা এখন যেখানে আছেন, সেখানেই থাকবেন যুগ যুগ। কিন্তু এখানেও পরিবর্তনের হাওয়া। কিলিয়ান এমবাপ্পে রিয়ালে নাম লেখানো এখন সময়ের ব্যাপার। হয়তো সামনের সাত-আট দিনের মধ্যেই একটা ঘোষণা চলে আসবে। 

এদিকে, ২০১৪ সাল থেকে বায়ার্ন মিউনিখ মাতানো লেভা নতুন ঠিকানা খুঁজে বেড়াচ্ছেন। বাভারিয়ানদের হয়ে ১৯ ট্রফি জেতা এই পোলিশ ফরোয়ার্ডের প্রথম পছন্দ বার্সা। দলটির কোচ জাভি হার্নান্দেজও লেভার মতো একজন ফরোয়ার্ডের অপেক্ষায়। অবশ্য বায়ার্ন তাদের ব্র্যান্ড ফুটবলার লেভানডস্কিকে সহজেই ছাড়বেন না। তেমন ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন দলটির চেয়ারম্যান অলিভার কান। কানের ভাষ্য, 'যেহেতু আমরা তাকে চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছি আর সে রাজি নয় চুক্তি করতে। সে ক্ষেত্রে তাকে ২০২৩ সালের জুন অবধি খেলতে হবে।'

অন্যদিকে, জুভেন্তাসে সাত বছরের মতো কাটানো দিবালা সোমবার রাতে ল্যাজিওর বিপক্ষে ঘরের মাঠে দর্শকদের থেকে বিদায় নেন। ২-২ গোলে ড্রয়ের পর ল্যাপ অব অনারের সঙ্গে চোখের জল গড়িয়ে পড়ে তার; তাতে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায়। একই দিন দর্শকদের থেকে বিদায় নেন জুভদের আরেক সেনানী চিয়েল্লিনি। নতুন ক্লাব খুঁজছেন লুইস সুয়ারেজও। অ্যাতলেটিকোর হয়ে এটাই তার শেষ মৌসুম। এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন সাবেক বার্সা তারকা। তা ছাড়া ২০১৫ থেকে পিএসজিতে আলো ছড়ানো ডি মারিয়া এখন এক বছরের চুক্তিতে জুভেন্তাসে যোগ দিতে রাজি।