কলকাতার মোহনবাগান। এশিয়ার প্রাচীনতম ফুটবল ক্লাবের একটি। ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্লাবটি শুধু ওপার বাংলারই নয়, ভারতীয় ফুটবল ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ক্লাব। ঐতিহ্য এবং সাফল্যের বিচারে মোহনবাগানের চেয়ে অনেক পিছিয়ে বসুন্ধরা কিংস। কিন্তু লড়াইটি যখন দুই বাংলার দুই ক্লাবের, তখন অতীত ইতিহাস এবং পরিসংখ্যান যেন তুচ্ছ হয়ে যায়! মাঠের লড়াইয়ের আগেই শুরু হয়ে যায় উন্মাদনা। সমর্থকদের মধ্যে চাপা উত্তেজনাও কাজ করে। কলকাতায় এখন সেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এএফসি কাপে গ্রুপ 'ডি'-তে আজ বসুন্ধরা কিংস ও মোহনবাগানের মধ্যকার ম্যাচ ঘিরে ফুটবল জ্বরে ভুগছে কলকাতা। ঐতিহ্যবাহী সল্টলেক স্টেডিয়ামে ম্যাচটি দেখার জন্য বাংলাদেশ থেকে অনেক সমর্থক কলকাতায় গেছেন। কলকাতায় আজ কিংসই যেন বাংলাদেশ। টিকিটের চাহিদাও তুঙ্গে। মাঠের বাইরের এ উত্তাপটা মাঠের মধ্যেও সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা ফুটবলবোদ্ধাদের। যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিকেল ৫টায় শুরু হবে মোহনবাগান ও বসুন্ধরার মধ্যকার ধ্রুপদি লড়াই। খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস।
পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে আইএসএলের ক্লাব মোহনবাগানকে হারিয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছে সদ্য আই লিগ জয়ী দল গোকুলাম কেরালা। দলটির ইতালিয়ান কোচ ভিনসেঞ্জো আলবার্তো তো বলেই দিলেন, আই লিগ আর আইএসএলের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। মাঠের খেলাটাই মুখ্য ও গুরুত্বপূর্ণ। আলবার্তোর মন্তব্যের পর কিংস কোচ অস্কার ব্রুজোনও এখন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন দলকে। গোকুলাম কেরালার কাছে মোহনবাগানের ৪-২ গোলের হারে আত্মবিশ্বাসটাও বেড়ে গেছে কিংস শিবিরে। যদিও গত বছর মালেতে অনুষ্ঠিত এএফসি কাপে এগিয়ে গিয়েও মোহনবাগানের সঙ্গে জিততে পারেনি বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নরা। সেই ড্রটি বসুন্ধরাকে ছিটকে দিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে। এবার বাগানের মাঠে ফুল হয়ে ফুটতে চান বিশ্বনাথ-তারিক কাজীরা। জয়ের সঙ্গে সল্টলেকে বদলে দিতে চায় ইতিহাসও।
এএফসির টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ক্লাবগুলোর জন্য ধাঁধার নাম মোহনবাগান। এশিয়ান ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপের পর ২০০৪ সালে এএফসি কাপ শুরু হওয়ার পর থেকে ওপার বাংলার ক্লাবটির বিপক্ষে জিততে পারেনি বাংলাদেশের কোনো ক্লাব। এএফসি কাপ এবং আগের টুর্নামেন্ট এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে মোহনবাগানের বিপক্ষে ছয়টি ম্যাচ খেলে তিনটিতে হার এবং সমান সংখ্যক ড্র করেছে বাংলাদেশের চারটি ক্লাব। মুক্তিযোদ্ধা, মোহামেডান, আবাহনী এমনকি বসুন্ধরাও পারেনি মোহনবাগান ধাঁধার উত্তর মেলাতে। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় এসে মোহনবাগানকে মাটিতে নামানোর আশা ব্রুজোনের, 'মোহনবাগান শক্তিশালী দল। আমরা খেলব জেতার জন্য। জয়ে প্রথম ম্যাচ শুরু করায় পুরো দলের সবাই আত্মবিশ্বাসী। আশা করি কিংসের হাত ধরেই বদলাবে ইতিহাস।' জিতলে ইন্টার জোনাল প্লে-অফ সেমিফাইনালে ওঠার পথটা সহজ হয়ে যাবে বসুন্ধরার। ২৪ মে গোকুলামের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে অঘোষিত ফাইনাল।
গত এপ্রিলে এই কলকাতায় এএফসি কাপের প্লে-অফে মোহনবাগানের কাছে ৩-১ গোলে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয় আবাহনী। দেশের ফুটবলে বর্তমানে কিংসের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব পারেনি কলকাতা জয় করতে। অস্কার ব্রুজোনের হাত ধরে এবার সেই স্বপ্নটাই দেখছেন ফুটবলপ্রেমীরা। নিজেদের মাঠে মোহনবাগান শক্তিশালী হলেও কেরালা দেখিয়ে দিয়েছে সবুজ গালিচায় দল হিসেবে খেলতে পারলে প্রতিপক্ষের দলের সেই শক্তি ক্ষয় হয়ে যায়। রক্ষণভাগে মোহনবাগানের প্রাণভোমরা তিরি চোট নিয়ে ছিটকে গেছেন কয়েক মাসের জন্য। ফিটনেসের অভাব সেন্টার ব্যাক সন্দেশেরও। এটা রবসন-মারাংয়দের জন্য সুখবরই বটে। নুহাং মারাংয়ের গোলে মাজিয়ার বিপক্ষে জেতা কিংসের শক্তি আরও বেড়েছে নাইজেরিয়ান চিনেডু ম্যাথু যোগ দেওয়ার কারণে। চিনেডু কলকাতায় যাওয়ায় মধুর সমস্যায় পড়ে গেছেন কোচ ব্রুজোন। মোহনবাগানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নুয়াং নাকি চিনেডুকে খেলাবেন, তা নিয়ে রয়েছেন দোটানায়।