মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট স্পিনারদের জন্য স্বর্গ। বিষয়টি এতোটাই প্রমাণিত যে, পরিসংখ্যানের দরকার পড়ে না। ২০১৮ সালে অল স্পিন অ্যাটাক বা একাদশে পেসার না নিয়ে চার স্পিনার খেলানোর রেকর্ডও আছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজের শেষ ম্যাচের কন্ডিশন ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে না। 

 অথচ স্পিন এই স্বর্গে বাংলাদেশ দলে নিয়মিত তিন স্পিনার নেই। শ্রীলঙ্কা যেখানে চার স্পিনার, এক পেসার নিয়ে খেলার কথা ভাবছে; মুমিনুল হকদের তখন বাধ্য হয়ে দুই পেসার এবং অলরাউন্ডারসহ তিন স্পিনার নিয়ে খেলার কথা ভাবতে হচ্ছে। ‘তিন পেসার নিয়ে খেলতে পারি’ এমন কথাও বলতে শোনা গেছে টাইগার টেস্ট কাপ্তান মুমিনুলের। 

চট্টগ্রাম টেস্ট শুরুর আগে ইনজুরি নিয়ে দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন স্পিনার মেহেদি মিরাজ। প্রথম টেস্ট শেষে নাঈম হাসানও ছিটকে গেছেন। দলে তার বিকল্প কাউকে ডাকা হয়নি। নিয়মিত স্পিনারের জায়গায় তাই টিম ম্যানেজমেন্টকে ডানহাতি স্পিন অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেনের দারস্থ হতে হচ্ছে। 

খালেদ আহমেদ এবং ইবাদত হোসেনের সঙ্গে বোলিং আক্রমণে সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম এবং মোসাদ্দেকের খেলার সম্ভাবনাই বেশি। পেসার একজন কমিয়ে চার বোলার নিয়ে খেললেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল বলেছেন, ‘কন্ডিশন আগের মতোই থাকবে। যদিও কিছুটা আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। মোসাদ্দেকের ফেরার সম্ভাবনা আছে, এখনও একাদশ ঠিক করিনি।’ 

মিরপুরে অনুশীলনে শ্রীলঙ্কা দল। ছবি: এএফপি

ওদিকে শ্রীলঙ্কা চট্টগ্রামে থাকতেই স্পিন আক্রমণ দিয়ে বাংলাদেশকে ধসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা বলেছিলেন, ‘ওখানকার উইকেট স্পিন সহায়ক। দলে আমরা স্পিনার বাড়াবো। ওদের দেড়শ’ রানের মধ্যে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করবো।’ তিনি স্পিন আক্রমণে লাসিথ এমবুলডেনিয়া, রমেশ মেন্ডিসের সঙ্গে জয়াবিক্রমার দলে ঢোকার ইঙ্গিত করেন। স্পিন অলরাউন্ডার ধনাঞ্জয়া তো আছেনই। 

মিরপুরের কন্ডিশন সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই লঙ্কান কোচ ক্রিস সিলবারউডের। তবে বাংলাদেশ এইচপি দলের সঙ্গে কাজ করে যাওয়া নাভিন নেওয়াজের থেকে পরামর্শ নিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, মনে মনে একটা দল তিনি ঠিক করেছেন, তবে বলবেন না। ইঙ্গিত দিয়েছেন, পেসার কাসুন রাজিথা এবং অসিথা ফার্নান্দোকে খেলানোর। একজন খেলানোর ইঙ্গিতও আছে।

সিলভারউড বলেছেন, ‘কাসুন খুবই ভালো বোলিং করেছে। আমার মতে, ওমন ফ্ল্যাট উইকেট কাসুন-অসিথা দু’জনই ভালো করেছে। তবে ঢাকা টেস্টের একাদশে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা আছে। এখানকার পরিসংখ্যান দেখবো আমরা, এরপর ভাববো একজন নাকি দু’জন পেসার নেবো। তবে আমাদের অধিনায়কের হাতে অনেকগুলো অপশন আছে।’ 

সংবাদ মাধ্যমের সামনে আসা দুই দলের প্রতিনিধির বক্তব্যেই একজন পেসার নিয়ে নামার ইঙ্গিত আছে। তবে এক পেসার নিলে শ্রীলঙ্কা অলরাউন্ডারসহ চার স্পিনার নিয়ে নামবে এটা এক প্রকার নিশ্চিত। বাংলাদেশের সেখানে এক পেসার নিলেও তিন স্পিনার নেওয়া ভিন্ন উপায় নেই। মুমিনুলদের হোম কন্ডিশনের সুবিধা তাই শ্রীলঙ্কার পালে হাওয়া দিচ্ছে।