সারা বছরের লড়াই, একটা একটা করে ম্যাচ জিতে জমানো পয়েন্ট লিগের শেষদিন শেষ হতে বসেছিল ম্যানচেস্টার সিটির। শিরোপা ছোঁয়া দূরত্বে ছিল দলটি। ঘরের মাঠে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে জিতলেই শিরোপা উৎসব। তবে হার কিংবা ড্র করলে এবং লিভারপুল জিতলেই সব অর্জন শেষ। 

ওই শেষের পথে পা বাড়িয়ে দিয়েছিল পেপ গার্দিওয়ালার দল। ম্যাচের প্রথমার্ধে এবং দ্বিতীয়ার্ধে গোল খেয়ে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল। তবে জার্মান মিডফিল্ডার গুন্দোগান বদলি নেমে ম্যাচের রঙ বদলে দেন। তার জাদুতে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দলকে ৩-২ গোলে জিতিয়ে ম্যানসিটিকে এনে দেন শিরোপা। অন্য ম্যাচে উলভের বিপক্ষে লিভারপুল ৩-১ গোলে জিতলেও তাদের লাভ হয়নি।

ম্যানসিটির স্বপ্ন ভাঙার দায়িত্ব নিয়েছিলেন অ্যাস্টন ভিলার কোচ সাবেক লিভারপুল কিংবদন্তি স্টিফেন জেরার্ড। তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক লিভারপুল মিডফিল্ডার ফিলিপে কুতিনহো। তারা পথটা এগিয়ে নিয়েছিলেন। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে ক্যাশ গোল করেন। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৯ মিনিটে কুতিনহো দারুণ এক বল জাড়ে জড়িয়ে দেন। 

ওদিকে লিভারপুল ম্যাচের তিন মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে। সাদিও মানে ২৪ মিনিটে গোল শোধ করেন। কিন্তু তারাও গোল করে শিরোপার পথে এগিয়ে যেতে পারছিলেন না। ম্যানসিটি যখনই গুন্ডোগানে ঘুরে দাঁড়িয়েছে লিভারপুলও তখন জয় পেয়েছে। 

বদলি নেমে ম্যাচের ৭৬ মিনিটে হেডে গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান গুন্ডোগান। এরপর ৭৮ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়ে গোল করেন রদ্রি। তিন মিনিট পরে গোলের একদম মুখ থেকে পা ছুঁইয়ে গুন্ডোগান বল পাঠিয়ে দেন জালে। ম্যানসিটি ততক্ষণে শিরোপা উৎসব শুরু করে দিয়েছে। এমন সময় ৮৪ মিনিটে মোহামেদ সালাহ এবং ৮৯ মিনিটে অ্যান্ডি রবার্টসন দলকে ৩-১ গোলের জয় এনে দেন। 

এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে লিভারপুলের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্টে এগিয়ে থেকে টানা দ্বিতীয় লিগ শিরোপা ঘরে তুললো ম্যানসিটি। ৩৮ ম্যাচে ২৯ জয় ও ছয় ড্রতে ৯৩ পয়েন্ট তুলেছে তারা। লিভারপুল সমান ম্যাচে ২৮ জয় ও আট ড্রতে তুলেছে ৯২ পয়েন্ট। দুই দলের গোল ব্যবধান ছিল মাত্র পাঁচ। লিগে চেলসি তিনে এবং টটেনহ্যাম চারে থেকে শেষ করেছে।