এমবাপ্পের চুক্তির পর একটি ট্রল বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আগামী মৌসুমে সতীর্থদের প্রতি তাঁর পরামর্শ কী- এমন একটি কাল্পনিক প্রশ্নের জবাবে এমবাপ্পের উত্তর, 'সবাই যেন মনে রাখে, আমাকে পাস না দিলে কিন্তু বিক্রি করে দেব!' টুইটারে মজার ছলে এই ট্রল করলেও নতুন চুক্তির পর পিএসজিতে এমবাপ্পের অবস্থান কিন্তু তেমনই। তিন বছরের এ চুক্তির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি বেতনের পাশাপাশি বিশ্বের ক্ষমতাধর ফুটবলারেও পরিণত হয়েছেন এমবাপ্পে। পিএসজি কোন খেলোয়াড় কিনবে, কাকে বিক্রি করবে- সে ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেওয়া তো বটেই, কোচ নিয়োগও হবে ২৩ বছরের এই তারকা ফরোয়ার্ডের মতামতের ভিত্তিতে। আর হ্যাটট্রিক করে চুক্তি নবায়নের আনন্দ উদযাপন করেছেন এমবাপ্পে। তাঁর নৈপুণ্যে মেতজের বিপক্ষে লিগের শেষ ম্যাচটি ৫-০-তে জিতেছে পিএসজি। গোল পেয়েছেন নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা নেইমার। আর গোল করে বিদায় নিয়েছেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া।

সর্বোচ্চ বেতনভুক্ত ফুটবলার

শনিবার সন্ধ্যায় পিএসজির ওয়েবসাইটে এমবাপ্পের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে ইতি ঘটে এ নাটকের। তারা জানায়, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ক্লাবটিতে থাকতে সম্মত হয়েছেন এমবাপ্পে। এরপর মেতজের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে ২০২৫ লেখা জার্সি তার হাতে তুলে দেন পিএসজি চেয়ারম্যান নাসের আল-খেলাইফি। এ চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বে সর্বোচ্চ বেতনভুক্ত ফুটবলার হলেন এমবাপ্পে। নতুন চুক্তিতে এমবাপ্পের বেতন হচ্ছে বার্ষিক ১০০ মিলিয়ন ইউরো। যার মানে, মাসে ৮ মিলিয়ন ইউরোর বেশি বেতন পাবেন তিনি। এতদিন বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভুক্ত ফুটবলার ছিলেন পিএসজিরই নেইমার। ব্রাজিলিয়ান এই তারকা পান মাসে ৪ মিলিয়ন ইউরো। এই ক্লাবে আছেন লিওনেল মেসিও। আর্জেন্টাইন তারকার মাসিক বেতন ৩.৩৭৫ মিলিয়ন ইউরো। পুরোনো চুক্তিতে এমবাপ্পের মাসিক বেতন ছিল ২.২ মিলিয়ন ইউরো। যার মানে, নতুন চুক্তিতে এমবাপ্পে মেসি-নেইমারদের দ্বিগুণ পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। সঙ্গে ৩০০ মিলিয়ন সাইনিং বোনাসসহ আরও আনুষঙ্গিক আর্থিক সুযোগ-সুবিধাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পিএসজি এমবাপ্পের জন্য ইমেজ রাইটস নিয়ে প্রচলিত নিয়মেরও ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। এমনিতে ইমেজ রাইটসের ৫০ শতাংশ সংশ্নিষ্ট খেলোয়াড় ও বাকি ৫০ শতাংশ ক্লাব পায়। নতুন চুক্তিতে এমবাপ্পে পাবেন ইমেজ রাইটসের ৭৫ শতাংশ। তাই কিছু দিনের মধ্যেই ফরাসি এই তারকার অ্যাকাউন্ট ফুলেফেঁপে উঠবে।

পিএসজির প্রশাসনে পরিবর্তন শুরু

এমবাপ্পের চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পিএসজির স্পোর্টিং ডিরেক্টর লিওনার্দো চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন। আজকালের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। বিশ্বকাপজয়ী এ ব্রাজিলিয়ানের জায়গায় আসছেন লুইস ক্যাম্পোস। জানা গেছে, মোনাকোতে এই ক্যাম্পোসের কারণেই আলো ছড়িয়ে সবার নজর কেড়েছিলেন এমবাপ্পে। বিদায় নিতে হচ্ছে কোচ মারিসিও পচেত্তিনোকেও। কোচ হিসেবে নাকি এই আর্জেন্টাইনকে পছন্দ না এমবাপ্পের। তিনি চান জিনেদিন জিদানকে। চুক্তির অন্যতম শর্তও নাকি ছিল এটা। জিদানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরও নাকি চূড়ান্ত। সে অনুষ্ঠানে কাতারের আমির স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন বলেও খবর। পিএসজিতে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার আরও বেশ ক'জন চাকরি হারাচ্ছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। এমনকি নেইমারকেও নাকি চাচ্ছেন না এমবাপ্পে। তার জায়গায় বার্সেলোনা থেকে উসমান দেম্বেলেকে আনার পক্ষেও নাকি তিনি।

আইনি পদক্ষেপ নেবে লা লিগা

বিশাল অঙ্কের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে এমবাপ্পেকে ধরে রাখায় পিএজির ওপর ভীষণ চটেছেন লা লিগা সভাপতি হ্যাভিয়ার তেবাস। টুইটে তিনি বলেন, এ রকম প্রস্তাব ফুটবলের জন্য অপমানজনক। আর পিএসজি ফুটবলের জন্য বিপজ্জনক। লা লিগা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এই চুক্তির ফলে হাজারো মানুষের চাকরি হুমকিতে পড়ে গেছে। এমবাপ্পের সঙ্গে তিন বছরের এই চুক্তি নবায়নে ফিফার আর্থিক সংগতি নীতি মানা হয়নি বলে উয়েফার কাছে পিএসজির নামে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়ে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতেও কাজ না হলে ইউরোপের আর্থিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর কাছে অভিযোগ করা হবে বলেও জানিয়েছে লা লিগা কর্তৃপক্ষ।

রিয়ালের দরজা চিরতরে বন্ধ

পাকা কথা দিয়েও এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদে না আসায় বেজায় চটেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। শনিবার বিকেলে রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে নিজে ফোন করে সিদ্ধান্তের কথা জানান এমবাপ্পে। এমবাপ্পে কথা দিয়েছিলেন বলেই তারা আরর্লিং হাল্যান্ডের দিকে হাত বাড়ায়নি। এখন রিয়ালের আমছালা দুই-ই গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবার রাতেই নাকি প্রভাবশালী পরিচালকদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন পেরেজ। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভবিষ্যতে এমবাপ্পের জন্য রিয়ালের দরজা চিরতরে বন্ধ। এমনকি এমবাপ্পের জাতীয় দলের সতীর্থ করিম বেনজেমা ইনস্টাগ্রামে ছবি পোস্ট করে ইঙ্গিতে তাঁকে বিশ্বাসঘাতক বলেছেন। মাদ্রিদ যখন হতবাক, তখন বার্সেলোনার সমর্থকরা নেচেগেয়ে আনন্দ করেছে।