সীমাবদ্ধতার কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।

তিনি বলেন, ‘আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। বিভিন্ন অসুবিধার কারণে আমরা যথাযথ সেবা দিতে পারছি না, এ কারণে কিছু কিছু অব্যবস্থাপনা যাত্রীদের হচ্ছে না, এটা আমরা বলতে পারবো না।’

সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন।

মাহবুব আলী জানান, এয়ারপোর্টের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, যাত্রী সেবার মান দেখভালের জন্য বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বিশেষ একটি টিম গঠন করা হয়েছে। সপ্তাহে তিন দিন তারা বিমানবন্দরে সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেবেন।

তিনি বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ হয়ে গেলে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং, লাগেজ অনেক বেশি আসবে। 

বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, ‘বিমানবন্দরে যার যা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। যারা ডিউটি করে তাদের নির্দিষ্ট সময়ের আধা ঘণ্টা আগে এয়ারপোর্টে ঢুকতে হবে। ডিউটি শেষে বের হওয়ার পর বের হতে হবে। যাতে আমরা যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে পারি। বহির্বিশ্বে বিমানবন্দরগুলোতে যেমন সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। সে ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট আছি।’

বিমানবন্দরের ক্যানপিতে লোহার গ্রিল দেওয়া প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, ‘এখানে বেরিকেড উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তবে যখন ট্রলি সংকট হলো তখন আবার ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। অনেক ট্রলি বিমানবন্দরের বাইরে চলে গেছে। ট্রলি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এটা আমাদের করতে হয়েছে।

আসন্ন হজযাত্রা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী জানান, হজযাত্রীদের আনা-নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্স সৌদি আরবে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াবে। আগামী ৩১ মে থেকে বিমানের হজ ফ্লাইট শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

এতে অন্যান্য রুটের সিডিউল ফ্লাইটে কোনো গড়বড় হবে কি না জানতে চাইলে বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, হজ ফ্লাইট পরিচালনায় বিমান অন্যান্য গন্তব্যেও শিডিউল ফ্লাইটের ফ্রিকোয়েন্সি কমিয়ে দেবে। কম গুরুত্বপূর্ণ ও কম লাভজনক রুটের ফ্রিকোয়েন্সিও কমানো হবে। এটা দুই মাসের বিষয়। এতে শিডিউল ফ্লাইটে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে না। 

তিনি জানান, বিমানের বহরে ২১ টির মধ্যে ৪টি বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ রয়েছে। ২০১৯ সালে এই চারটি দিয়ে হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছিল। এ বছরও সেটি করা হবে। 

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ফ্রিকোয়েন্সি কমানো হবে না বলেও জানান তিনি।

বিশ্বের নানা দেশে মাঙ্কিপঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আসা প্রতিটি যাত্রীকে স্ক্রিনিং করা হবে।

বাংলাদেশে আসা সব যাত্রীকে একটি হেলথ ডিক্লারেশন ফরম দেওয়া হবে। সেখানে ওই ব্যক্তি মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত কি না, তার মাঙ্কিপক্সের কোনো লক্ষণ আছে কি না এবং সে মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত কোনো দেশে ভ্রমণ করেছে কি না— এমন তথ্য জানতে চাওয়া হবে। তারা যে উত্তর দেবেন সেটিকে ভেরিফাই করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসকরা। এছাড়া মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হলে যাত্রীর চেহারা ও শরীর দেখেই বোঝা যাবে। চিকিৎসকরা স্বচক্ষে যাত্রীদের পর্যবেক্ষণ করবেন।

এছাড়া বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ক্রুদের মাঙ্কিপক্স বিষয়ে ব্রিফ করবে বেবিচক।

বিমানবন্দরে বিমান প্রতিমন্ত্রীর সংবাদ ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হোসেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি সিইও ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল, শাহজালাল বিমানব্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যপ্টেন মো. কামরুল ইসলাম প্রমুখ।