ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রদলের নারী নেত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ৮০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদল। 

আজ মঙ্গলবার রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল এই অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারি উচ্চ পর্যায় থেকেই এই হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগকে কোনো শিষ্টাচার শেখানো হয়নি। শিক্ষাঙ্গনকে এই সরকার বিশৃঙ্খলায় ভরিয়ে রাখতে চায়, যাতে ছাত্রসমাজ কথা বলতে না পারে। 



সচেতন ছাত্রসমাজকে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশকালে  ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। হকিস্টিক, রড, রামদা, চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এই হামলা চালানো হয়। এই হামলায় ছাত্রদলের কমপক্ষে ৮০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেকের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। 


তিনি বলেন, ছাত্রদলের নেত্রী মানসুরা আলম, রেহেনা আক্তার শিরীন, শানজিদা ইয়াসমিন তুলি, সৈয়দা সুমাইয়া পারভীন, তন্বী মল্লিক এই হামলা থেকে রেহাই পাননি। তাদেরও সড়কে ফেলে নির্দয়ভাবে প্রহার করা হয়েছে। দুজন ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে শহীদুল্লাহ হলে আবরার স্টাইলে নির্যাতন করা হয়েছে। ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মহড়া চলছে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত নেতাকর্মী ও চিকিৎসকদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।

জুয়েল জানান, আহত নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসার মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামান আক্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আকতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম সোহেল, শাজাহান শাওন, সজীব মজুমদার, এবিএম এজাজুল কবির রুয়েল, আবু সুফিয়ান, হাসান আল আরিফ, মোস্তাফিজুর রহমান, শরীফ প্রধান, মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য মওদুদ হোসাইন, নাহিদুজ্জামান শিপন। এছাড়াও বিভিন্ন হলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে তারেক মামুন, শরীফুল ইসলাম, ইব্রাহিম খলিল, ওমর ফারুক মামুন, মাহফুজুর রহমান, মাহমুদুল হাসান, আরিফ হাসান, সেজান মাহমুদ, সাইফ খান আহত হয়েছেন। এছাড়াও সাখাওয়াত হোসেন সোহান, ওমর সানী, ইব্রাহিম কাদরী, সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী, সজিব বিশ্বাস, মোল্লা টিপু, মেজবাহ, জেমিন, হাসিব চৌধুরী, মুন্না, মোস্তাফিজুর রহমান, কাওসার মলি­ক, মোহাগ শিকদার, আল আমিন খান, জয়নাল আবেদিন সবুজ, কামরুল ইসলাম কানন, এস এম ইমরান মীর, আবু হুরায়রা, জুয়েল, মাসুদ, আল আমিন বাবলু, শরীফুল ইসলাম শুভ, বাপ্পী, রুহুল আমিন, সেলিম, মাহমুদ, কামরুল ইসলাম, রাসেল বাবু, সাজেদুর রহমান সাগর বাবু, মো. জুয়েল, লুৎফর রহমান বাবার, হোসেন আলী, রাশেদ, রিয়াদ খান, মেহেদী হাসান, আক্তার হোসেন ফরাজী, সৈয়দ তালুকদার, সামসুদ্দীন, মৃনাল কান্তি সুজন, সুমন সরকার, সাগর আহম্মেদ বাবু, আউয়াল আহমেদ আদিল, মঈন খান, ইসমাইন মোল্লাসহ আরও অনেকে। 

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন উপস্থিত ছিলেন।