ফরিদপুরের সালথায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত আসাদ শেখ (৩৮) নামে এক যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকায় পুলিশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশীয় অস্ত্রসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৫ মে) রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আসাদ। তিনি উপজেলার যদুনন্দি ইউনিয়নের বড় খারদিয়া কাজিপাড়া এলাকার হাসেম শেখের ছেলে।

জানা যায়, এলাকার দলপক্ষকে কেন্দ্র করে খারদিয়া গ্রামের প্রভাবশালী বাসিন্দা যদুনন্দি ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্যার সমর্থকদের সঙ্গে যদুনন্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মিয়ার সমর্থকদের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ রফিক মোল্যা ও আলমগীর মিয়াকে গ্রেপ্তার করে হামলা মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠান।

২৮ এপ্রিল তারা উভয়ই আদালত থেকে জামিন পেয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। তারা জামিনে এসে আবার এলাকায় দলপক্ষকে কেন্দ্র করে উভয় গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই নিয়ে চরম উত্তেজনা চলছিল। এই উত্তেজনা মধ্যে ৫ মে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুই গ্রুপের শতশত লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হন।

এ সময় ৫০টি বাড়িঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় আলমগীরের সমর্থকরা। লুটপাট করা হয় ঘরে থাকা টাকাপয়সা ও আসবাবপত্র। সংঘর্ষে আহত আলমগীরের সমর্থক সিরাজুল ইসলাম নামে এক যুবক নিহত হন। গুরুতর আহত হন যদুনন্দি ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্যার সমর্থক আসাদ শেখ।

আহত আসাদ শেখকে প্রথমে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বুধবার রাত ৮টার দিকে সেখানে মারা যান তিনি।

ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) সুমিনুর রহমান বলেন, ৫ মে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আসাদ শেখ আহত হয়। বুধবার রাত ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মারা যাওয়ার সংবাদে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অস্ত্রসহ একজনকে আটক করা হয়েছে।