তিন বছর পর আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ এবং লিভারপুল মুখোমুখি। রেডস শিবিরে বাজছে ২০১৮’র ফাইনাল হারের প্রতিশোধের বাজনা। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাস সেরা দল রিয়াল ছেড়ে কথা বলবে না। দুই দলের ফুটবলার, কোচ, খেলার ধরন মিলিয়ে শনিবার রাতে রোমাঞ্চকর ম্যাচের আভাসই মিলছে। 

রিয়াল কোচ কার্লো আনচেলত্তি যেমন গতির খেলা পছন্দ করেন। লিভারপুল কোচও তাই। দুই কোচই মাস্টার অব কাউন্টার অ্যাটাক। শক্ত মিডফিল্ডের সঙ্গে দু’দলের অটুট আক্রমণভাগ। ইব্রাহিম কোনাতে এবং ভ্যান ডাইককে নিয়ে রক্ষণে কিছুটা এগিয়ে থাকবে লিভারপুল। তবে রিয়াল খুব পিছিয়ে তা নয়। 

ফাইনালের ফল নির্ধারণ করে দিতে পারে ট্রাপ। কোন কোচ কীভাবে কৌশলের ফাঁদ পেতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পারেন সেটাই হবে দেখার বিষয়।

ভিনিসিয়াস বনাম অ্যালেক্সজান্ডার অরনাল্ড

ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়াস চলতি মৌসুমে বদলে যাওয়া ফুটবলার। রিয়ালের বাজির ঘোড়া তিনি। গতির সঙ্গে কাউন্টার অ্যাটাকের মূল ফুটবলার। লিভারপুলের রাইট ব্যাক ট্রেন্ট অ্যালেক্সজান্ডার অরনাল্ড অফেন্সিভ খেলতে পছন্দ করেন। রিয়াল তাকে ট্রাপ করে ওপরে তুলে নিয়ে ভিনিকে দিয়ে বাম প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ শানতে পারে। 

বেনজেমা বনাম ফ্যাবিনহো 

রিয়ালের গোল মেশিন করিম বেনজেমা। ভিনিসিয়াস গতি দিয়ে বল নিয়ে ঢুকে মূলত বেনজিকে বল বানিয়ে দেন। কিন্তু ফ্রান্সম্যানকে ফাইনালে লিভারপুলের ছয় ফিট চার ইঞ্চি উচ্চতার দু’জন ডিফেন্ডারের মুখোমুখি হতে হবে। ফ্রান্সের ইব্রাহিম কোনাতে এবং ডাচদের ভ্যান ডাইক তার স্পেস নষ্ট করবেন। সঙ্গে শারীরিক লড়াই তো থাকবেই। এর বাইরে লিভারপুলের বড় শক্তি ফ্যাবিনহোর ফিট হয়ে ফেরা। ড্রপিং বিটুইন লাইনে খেলা বেনজেমাকে দেওয়া পাস ব্লক করতে ফ্যাবিনহোর চেয়ে সেরা কেই বা আছে।

সাদিও মানে বনাম কাসেমিরো

লিভারপুল কোচ জার্গেন ক্লপের অন্যতম কাজ হবে ক্যাসিমিরোকে ট্রাপ করা। কাজটা সহজ নয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবচেয়ে বেশি ১৭বার ফাউল করেছেন তিনি। কিন্তু হলুদ কার্ড পেয়েছেন মাত্র তিনটি। ডার্ক আর্টের মাস্টার ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে সাদিও মানে কাজটা সহজ করে ফেলতে পারেন। ড্রপ লাইনে স্ট্রাইকার পজিশনে দাঁড়িয়ে সেনেগাল স্টার কাসেমিরোকে ব্যস্ত রাখতে পারেন। শারীরিক লড়াইয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলতে পারেন। সুযোগ করে দিতে পারেন মোহামেদ সালাহকে উঠে আসার। 

রিয়ালের ফ্রেশ লেগ বনাম লিভারপুলের ইউনিটি 

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদ দুর্দান্ত কিছু কামব্যাক দেখিয়েছে। পিএসজি, চেলসি কিংবা ম্যানসিটির বিপক্ষে হারতে হারতে জিতেছে দলটি। অনেকের চোখে ভাগ্য জোরে সম্ভব হয়েছে এটা। ভাগ্যের সুবিধা নিশ্চয় পেয়েছে, তবে তরুণ এডওয়ার্ড কামাভেঙ্গা, রদ্রিগো গোয়েস কিংবা ভেদে ভালভার্দে মাঠে নেমে সতেজ শরীরে যে ফুটবল দেখিয়েছেন তা প্রশংসার যোগ্য। 

অন্যদিকে লিভারপুলের দল হয়ে খেলার প্রবণতা অনন্য। রেডসদের ডাগ আউটে সাত মৌসুমে ক্লপ একটা জিনিস প্রমাণ করে দিয়েছেন, বার্সা যদি ‘মোর দ্যান এ ক্লাব’ হয়, বায়ার্ন মিউনিখ যদি ‘মিয়া সান মিয়া’ হয় তাহলে লিভারপুল ‘ভ্যান ডাইক-অরনাল্ড-সালাহ-মানে নেভার ওয়াক এলন’ বা রেডসরা একলা চলে না মন্ত্রে বিশ্বাসী। ম্যাচে শেষের আগে শেষ তারা মানে না।