সাত বছর আগে এক দুর্ঘটনায় দুই কব্জি হারান খুলনার যুবক আরমান হোসেন। শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতা দমিয়ে রাখতে পারেনি তাকে। ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা তাকে মাঠে টেনে এনেছে। সতীর্থদের সঙ্গে খেলে যাচ্ছেন সমানতালে। 

স্থানীয়রা জানান, ছোট থেকেই ক্রিকেট ভালোবাসেন মহানগরীর খালিশপুর বঙ্গবাসী এলাকার আরমান। বাড়ির পাশের মাঠে নিয়মিত খেলতেন তিনি। ২০১৫ সালে চাকরি করতে যান রাজধানীতে। ওই বছরের ১৫ মে দুর্ঘটনায় দুই কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তার। এলাকায় ফিরে সুস্থ্য হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আবার ব্যাট হাতে মেতে ওঠেন। 

গত শুক্রবার তার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আরমান কিশোর ও যুবকদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলছেন। কব্জিবিহীন হাত দিয়েই ব্যাটিং-বোলিং করছেন। দূর থেকে সতীর্থদের ফেরত পাঠানো বল ক্যাচ ধরার কৌশলও রপ্ত করে নিয়েছেন তিনি। 

দুই কব্জি না থাকলেও ক্রিকেট থেকে দূরে সরেননি আরমান। ছবি: সমকাল

ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে আরমান সমকালকে বলেন, কব্জি হারানোর সঙ্গে চাকরিও হারিয়েছেন তিনি। কোথাও আর চাকরি হয়নি। বাবার ছোট্ট মুদি দোকান বসেন। প্রবল ইচ্ছা ও মাসনিক শক্তি বলেই অবসরে স্থানীয় তরুণদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলেন। কেউ তাকে অসহযোগিতা বা অবহেলা করে না। 

স্থানীয় সাংবাদিক মো. মিলন জানান, আরমানকে খেলায় নিতে এলাকার কেউ তাচ্ছিল্য করে না। স্থানীয় অনির্বাণ ক্লাবের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে তিনি আম্পায়ারিং করেন। খালিশপুর অনির্বাণ ক্লাবের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান সমকাল বলেন, তিনি শারীরিকভাবে পিছিয়ে পড়া দলে খেলার যোগ্য। কোন সংস্থা ছেলেটি ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ালে বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে তারা উপকৃত হবে।