দুই মাস আগে যখন আইপিএল শুরু হয় তখন সম্ভবত কেউই বিশ্বাস করতে পারেনি যে, ফাইনালে টস করতে নামবেন হার্দিক পান্ডিয়া ও সঞ্জু স্যামসন। তাই বলে তাদের ফাইনালে আসাটা মোটেই ফ্লুক নয়। রোহিত শর্মা, এমএস ধোনি, বিরাট কোহলিদের দলকে টপকে এই দুই দল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করেই প্লেঅফে এসেছিল। সে হিসেবে সেরা দুই দলের মধ্যে ফাইনাল হচ্ছে। আজ আহমেদাবাদে কার হাতে উঠবে আইপিএল ট্রফি? অভিষেকেই বাজিমাত করবে গুজরাট টাইটান্স, নাকি ১৪ বছর পর আবার ট্রফি যাবে রাজস্থানের ঘরে?

নবীন দল হলেও আজকে ফাইনালে ফেভারিট কিন্তু পান্ডিয়ার গুজরাট। এবারের আসরে তারা এখন পর্যন্ত দু'বার রাজস্থানের মুখোমুখি হয়েছে। দু'বারই দাপটের সঙ্গে রাজস্থানকে হারিয়ে তারা। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে অধিনায়ক পান্ডিয়ার দাপটে ৩৭ রানের ব্যবধানে হারিয়েছিল রাজস্থানকে। এরপর প্রথম কোয়ালিফায়ারে ডেভিড মিলারের দাপটে ৭ উইকেটে জিতেছিল গুজরাট। তবে দু'বার হারলেও অতীতের একটি পরিসংখ্যান দেখলে আশাবাদী হয়ে উঠতে পারে রাজস্থান। ২০১১ সালে প্লেঅফ শুরু হওয়ার পর থেকে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করা দল সাতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দল তিনবার শিরোপা জিতেছে। এবার রাজস্থান দ্বিতীয় হয়ে প্লেঅফে এসেছে।

রাজস্থান আশাবাদী হওয়ার আরেকটি কারণ জস বাটলারের অবিশ্বাস্য ফর্ম। ইংলিশ এ তারকা এবারের আইপিএলে রেকর্ড ৪টি সেঞ্চুরি করেছেন। এবারের আসরের সর্বোচ্চ সংগ্রাহকও তিনি। তবে শিরোপা জিততে হলে বাটলারের সঙ্গে সঞ্জু, হেটমায়ারদেরও জ্বলে উঠতে হবে। রান সংগ্রহে বাটলার থেকে বেশ পিছিয়ে থাকলেও প্রয়োজনের সময় ঠিকই খেলে দিচ্ছেন গুজরাটের ডেভিড মিলার। তার সঙ্গে অধিনায়ক পান্ডিয়া, ওপেনিংয়ে ঋদ্ধিমান ও লোয়ার অর্ডারে রাহুল তেওয়াতিয়া দারুণ ছন্দে আছেন। বোলিংয়েও বেশ এগিয়ে গুজরাট। রশিদ খানের লেগস্পিন বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দারুণ বোলিং করছেন ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামি। এ ছাড়া পান্ডিয়া ও আলঝারি জোসেফও ভালো বোলিং করছেন। রাজস্থানের বোলিংও কিন্তু মন্দ নয়। বরং রবিচন্দ্র অশ্বিন ও যুজবেন্দ্র চাহালের সমন্বয়ে গড়া রাজস্থানের স্পিন তো টুর্নামেন্টের সেরা। তাদের সঙ্গে ট্রেন্ট বোল্ট জ্বলে উঠতে পারলে শিরোপা রাজস্থানের ঘরেই যাবে।