উৎসব-উল্লাসের জন্য প্যারিসের চেয়ে ভালো জায়গা পাওয়া দুষ্কর। ইউরোপের দুই এলিট দল রিয়াল মাদ্রিদ ও লিভারপুল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠায় উৎসবে বাড়তি প্রাণ পেয়েছিল। কিন্তু খেলা শুরুর আগেই উৎসব রূপ নেয় দাঙ্গায়। পুলিশের পিটুনি, কাঁদানে গ্যাসে ম্যাচ শুরুর আগেই কাঁদতে হয়েছে অল রেডস ভক্তদের। 

ম্যাচ শেষে ফাইনাল হারের চাপা কষ্টে চোখ ফেঁটে জল ঝরেছে সালাহ-মানে ভক্তদের। উয়েফা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিভারপুল ভক্তরা ভুয়া টিকিট ছাপিয়ে গ্যালারিতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের আটকানোর চেষ্টা করায় বেধে যায় দাঙ্গা। শিশুদের ওপর পুলিশ কাঁদাতে গ্যাস ছোড়ায় নিন্দার শিকার হতে হচ্ছে প্যারিসের পুলিশের। 

দাঙ্গার পর স্টেডিয়ামের বাইরের চিত্র। ছবি: আলজাজিরা

ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামের বাইরে ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। বোতল-ব্যানার-ছেড়া প্লাকাডে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। যে কারণে ম্যাচ শুরুতে ৩৬ মিনিট বিলম্ব হয়। শিশুদের কান্নার ছবি দিয়ে ইংলিশ এক সংবাদ মাধ্যম লিখেছে, ‘শিশুরা জোরে কাঁদছিল। তাদের থামানো যাচ্ছিল না। পুলিশ তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করেছে যেন ওরা গরু-ছাগল। স্টেডিয়ামে ঢোকার লম্বা লাইন পড়ে ছিল। হাতে টিকিট ছাড়া কেউ ছিল না।’ 

ওই দাঙ্গায় ১০জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ আটক করেছে ১৭৬ জনকে। ভক্তদের ওই কষ্ট ফাইনাল জিতে মুছে দিতে পারতেন সালাহ-মানেরা। মুছে দিতে পারতেন জার্গেন ক্লপ। কিন্তু একের পর এক আক্রমণ করেও গোল করতে না পেরে ভক্তদের হতাশ করেছে অল রেডসরা। রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া নয়টি দুর্দান্ত সেভ দিয়ে দলকে ১-০ গোলে ফাইনাল জিতিয়েছেন। অথচ ম্যাচ পুরো নিয়ন্ত্রণে ছিল ইংলিশ ক্লাবটির। 

ম্যাচ শেষে হতাশ হ্যান্ডারসনকে স্বান্তনা দিচ্ছেন কোচ ক্লপ। ছবি: টুইটার

ম্যাচ শেষে তাই আবেগ ধরে রাখা কঠিন হয়েছে লিভারপুল তারকাদের। ভক্তদের মারধর খাওয়ার খবর নিশ্চয় তাদের কানে পৌঁছেছিল। এরপর স্টেডিয়ামে ভক্তদের মন খারাপের দৃশ্য আবেগি করে তোলে রেডসদের। দলটির ইংলিশ মিডফিল্ডার ও অধিনায়ক জর্ডান হ্যান্ডারসন তো কেঁদেই ফেলেন। ডিয়াগো জোটার চোখ ছলছল করছিল।

কোচ ক্লপ তাদের একে একে বুকে টেনে দেন, স্বান্তনা দেন। কান্না থামানোর চেষ্টা করেন। ম্যাচ শেষে ভক্তদের উজ্জীবিত করতে লিভারপুল কোচ তাই হয়তো বলেছেন, সামনের বছর ফাইনালের জন্য টিকিট বুকিং করে রাখতে। তাতে কি আর ভক্তরা স্বান্তনা পাবে। কোয়াড্রপলের স্বপ্ন দেখা দলটিকে ডাবলেই স্বন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। সফল মৌসুমও আর বলা যাচ্ছে না।