বাংলাদেশে ‘এ’ দল আছে কাগজে। খেলার মাঠে নেই বললে চলে। গত তিন-চার বছরে বিদেশে কোনো সিরিজ খেলার সুযোগ হয়নি। বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের আকরাম খানের কমিটি এদিক দিয়ে চরম ব্যর্থতার পরিচায় দিয়েছে বিগত বছরগুলোতে। এই বিভাগের বর্তমান কমিটি ‘এ’ দলের খেলা নিয়ে কিছুটা সরব হয়েছে। 

এ বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুটি অ্যাওয়ে সিরিজ খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ে ‘এ’ দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর ঘিরে কিছু কার্যক্রম শুরুও করেছে বিসিবি। বাংলাদেশ টাইগারের ট্রেনিং ক্যাম্পে ছিলেন খেলোয়াড়রা। এইচপির সঙ্গে ‘এ’ দলের তিন দিনের একটি ম্যাচও রয়েছে। বাংলাদেশ টাইগার্স  ও এইচপির সঙ্গে লাল এবং সাদা বলে ম্যাচ খেলবে। 

মূলত ‘এ’ দলের বিদেশ সফর ঘিরেই নিজেদের মধ্যে এই ম্যাচ প্র্যাকটিস। যেখানে মিঠুন, সাদমান, সৌম্য, নাঈমদের সঙ্গে জাতীয় দলের পাইপ লাইনের ক্রিকেটারদের রাখা হচ্ছে। কারণ এই ক্রিকেটারদের নিয়েই তো গড়া হচ্ছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিনটি একদিনের ও দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। জাতীয় দল থেকে সদ্য বাদ পড়া ক্রিকেটারদের জন্য সফরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর মতে, ‘যেহেতু জাতীয় দলের সেতু ‘এ’ দল, সে কারণে একটা ভারসাম্য রাখতে হয়। যাদের জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ আছে তারা তো থাকবেই, সঙ্গে উদীয়মান খেলোয়াড় নেওয়া হবে যাতে আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বুঝতে পারে।’ 

মোহাম্মদ মিঠুন, নাঈম শেখ, সাদমান ইসলাম, সাইফ হাসান জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন বেশি দিন হয় না। ভালো খেললেই যেকোনো সময় জাতীয় দল ফিরবেন তাঁরা। প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর পরামর্শে মিঠুনকে প্রস্তুত করা হচ্ছে ওপেনিং ব্যাটার হিসেবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) ওপেনার হিসেবে খেলে দারুণ সফল তিনি। 

জাতীয় দলের ম্যানেজমেন্ট থেকেই তাঁকে বলা হয়েছে, যে কোনো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ওপেনার হিসেবে খেলতে। জাতীয় দল নির্বাচকরাও 'এ' দলের সঙ্গে সেভাবেই সেট করছেন মিঠুনকে। প্রধান নির্বাচক নান্নু বলেন, ‘মিঠুনকে ‘এ’ দলের অধিনায়ক করা হবে। কোচের দেওয়া রোল সে পালন করবে। নিশ্চয়ই ওকে নিয়ে কোচের কোনো পরিকল্পনা আছে।’

মিঠুন-নাঈমদের নিয়ে পরিকল্পনা থাকলেও সৌম্য সরকারের ঠিকানা বাংলাদেশ টাইগার। ‘এ’ দলের স্কোয়াডে রাখা হয়নি বাঁহাতি এই ওপেনারকে। সৌম্য জাতীয় দল কেন্দ্রিক পরিকল্পনার বাইরে কিনা জানতে চাওয়া হলে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান ইংল্যান্ড থেকে এক মেসেজে লেখেন, ‘সৌম্য টাইগারে ক্যাম্প করলে ভালো হবে। নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবে। সে ওখানেই থাকব।’

প্রধান নির্বাচক নান্নু চান ‘এ’ দলের ওয়ানডে ম্যাচগুলো খেলুক সৌম্য। মূলত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে রান না করায় বাঁহাতি এ ব্যাটারকে জাতীয় দলের পুলে রাখেনি। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ভালো না করলেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রান আছে সৌম্যর। যদিও লাল বলের ক্রিকেটে বিবেচনা করা হচ্ছে না তাঁকে। সাহাদাত হোসেন দিপু, অমিত হাসানরা খেলবেন ‘এ’ দলের চার দিনের ম্যাচে। তবে এবার যাঁরা সুযোগ পাচ্ছেন না তাঁদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। 

এখন থেকে নিয়মিতই ‘এ’ দলের সিরিজ থাকবে বলা চলে। বছরে অন্তত দুটি করে ‘এ’ দলের রাখার চেষ্টা করছে বিসিবি। এ বছর দুটি সিরিজই হবে বিদেশে। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দল ফিরতি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশে। পরের বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম এবং অ্যাওয়ে সিরিজ হতে পারে। নিউজিল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গেও আলোচনা এগিয়েছে অনেকটাই।