আইপিএলের মিডিয়া স্বত্ব বিক্রি করে পুরো ক্রীড়া বিশ্বে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। তাদের লক্ষ্মীর ভান্ডার যেন উপচে পড়ছে। আয়-রোজগারে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগকে পর্যন্ত টেক্কা দিয়েছে আইপিএল। চার বছরের সাইকেলে মিডিয়া স্বত্ব বিক্রি করে তারা প্রায় ৫০ হাজার কোটি (৪৮৩৯০) রুপি আয় করেছে। এ অর্থে দেশটির ক্রিকেট কাঠামো যেমন শক্তিশালী হবে, বেড়ে যাবে ভারতীয় ক্রিকেটারদের আয়ও। এত অর্থ ক্রিকেটারদের মাথা ঘুরিয়ে দেবে না তো আবার? তবে বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী তেমনটা মনে করেন না। ভারতের সাবেক এ অধিনায়কের মতে, ক্রিকেটাররা কেবল অর্থের জন্য খেলেন না।

ফুটবল লিগগুলোর মধ্যে আয় ও জনপ্রিয়তায় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ এক নম্বরে। তবে ক্লাব ফুটবলে দাপট দেখালেও ইংল্যান্ড জাতীয় দল কিন্তু অনেক বছর ধরেই কোনো শিরোপা জিততে পারেনি। এজন্য দেশটির ফুটবলারদের মাঝে খুব একটা আক্ষেপও দেখা যায় না। তাঁদের পেছনে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করা ক্লাবকে সফলতা এনে দিতে পারলেই তাঁরা খুশি। আইপিএলে অর্থের ঝনঝনানি ভারতীয় ক্রিকেটারদের মাঝেও কি একই মনোভাব তৈরি করতে পারে?

সৌরভ গাঙ্গুলী অবশ্য এমনটা মনে করছেন না, 'অর্থ পারফরম্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে না। এখনকার খেলোয়াড়রা যে অর্থ পায়, সুনীল গাভাস্কারের সময় থেকে অনীল কুম্বলে-রাহুল দ্রাবিড়রা তার ধারেকাছেও পেতেন না। কিন্তু তাঁদের সবার পারফর্ম করার খিদেটা ছিল। আমার মনে হয় না খেলোয়াড়রা কেবল অর্থের জন্য খেলে। ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করার মধ্যে যে গর্ব রয়েছে, সেটার জন্যই তারা মাঠে নামে। প্রত্যেক ক্রিকেটার বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট জেতার জন্য মরিয়া থাকে।'

টাইমস অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশাল এ অর্থ ব্যয়ের পরিককল্পনা নিয়েও বলেছেন বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ, 'ভারতীয় ক্রিকেট কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার এটি একটি বড় সুযোগ। ঘরোয়া অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে পারবে বিসিসিআই। তৃণমূল পর্যন্ত এই অর্থ পৌঁছে দিতে হবে। এর ফলে খেলোয়াড়দের আয় বাড়ানো যাবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী ক্রিকেটারদের বেতন বাড়াতে হবে। আমরা এরই মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করে দিয়েছি। এ মৌসুম থেকেই খেলোয়াড়রা এ সুবিধা ভোগ করতে শুরু করবে। আমার মনে হয়, এর ফলে আরও অনেক বেশি শিশু ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। ক্রিকেটকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে অনেক বাচ্চাই আগ্রহী হবে।'