দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে গ্যারি কারস্টেনের একাডেমিতে টেস্ট ক্রিকেটারদের স্কিল ক্যাম্পের ব্যবস্থা করেছিল বিসিবি। উদ্দেশ্য কন্ডিশনের সঙ্গে ক্রিকেটারদের মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া এবং স্কিলে উন্নতি ঘটানো। মুমিনুলদের নিয়ে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পটিতে ছিলেন জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স। বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ কারস্টেনও দুই তিনটি সেশন কাটিয়েছেন মুমিনুল-সাদমানদের সঙ্গে। 

ক্যাম্প শেষে জেমি উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন ব্যাটারদের। প্রত্যেক ব্যাটারের স্কিল নিয়ে মূল্যায়ন রিপোর্ট প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো এবং বিসিবির প্রতিনিধির কাছে জমা পড়লেও কেউ খুলে দেখেছেন বলে জানা নেই। পড়ে দেখার মতো সময়ও হয়তো নেই সংশ্লিষ্টদের হাতে। এভাবেই ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স এবং মূল্যায়ন রিপোর্ট নতুন কোনো ফাইলের নিচে চাপা পড়ে যায়। মেইল থেকেও একসময় মুছে ফেলা হয়।

কারস্টেনের ক্যাম্পে জাতীয় দলের নিয়মিত টেস্ট ক্রিকেটার ছাড়াও মোহাম্মদ মিঠুন এবং রেজাউর রহমান রাজাকেও নেওয়া হয়েছিল। ক্যাম্প শেষে মুমিনুলরা টেস্ট খেলতে গেলে তাঁরা দু'জন ফিরে এসেছিলেন দেশে। ক্যাম্প গুটিয়ে নেওয়ার আগে ব্যাটারদের কারও কারও সঙ্গে একান্তে মূল্যায়ন রিপোর্ট নিয়ে কথা বলেছেন জেমি। মিঠুন, সাদমানদের মতো কারও কারও ব্যাটিং টেকনিক নিয়ে জেমিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট এবং বিসিবির থেকে। ব্যাটিং কোচ সবার রিপোর্টই দিয়েছিলেন। 

মুমিনুলরাও ছিলেন সে রিপোর্টে। যাঁদের টেকনিকে ত্রুটি নেই তাঁদের জাতীয় দলে নিয়মিত করার সুপারিশ করেছিলেন কোচ। জেমি ব্যাটারদের বলেও দিয়েছিলেন, তিনি ভালো রিপোর্ট দিলেও জাতীয় দলে নিতে পারবেন না। জাতীয় দলে নেওয়া নির্বাচকদের দায়িত্ব। জেমির রিপোর্ট ডমিঙ্গোর কাছে পৌঁছালেও নির্বাচকদের তা জানানো হয়নি। জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটার আক্ষেপ করে বলেন, 'রিপোর্ট দিয়ে লাভ কী? জাতীয় দল তো খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন রিপোর্ট বা ঘরোয়া পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয় না। টিম ম্যানেজমেন্ট যাকে দলে চায় নির্বাচকরা তাদের স্কোয়াডে নেন।'

বাংলাদেশ টাইগার এবং এইচপির ক্যাম্প শেষেও ক্রিকেটারদের স্কিল মূল্যায়ন রিপোর্ট দেন কোচরা। টাইগারের প্রথম ক্যাম্প শেষে কোচ মিজানুর রহমান বিভাগটির চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। চলমান ক্যাম্প শেষেও মূল্যায়ন রিপোর্ট দেবেন তাঁরা। কিন্তু মূল্যায়ন রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা জানেন না এই দুই ক্যাম্পের কোচ। এই রিপোর্ট নির্বাচকদের কাছেও হস্তান্তর করা হবে না। 

নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল্যায়ন রিপোর্টের কপি কোনো দিনই দেওয়া হয় না তাঁদের। এইচপি এবং বাংলাদেশ টাইগারের কোচদের কাছ থেকে ক্রিকেটারদের মূল্যায়নের তথ্য মৌখিকভাবে জেনে নেন তাঁরা। জাতীয় দলের ক্ষেত্রে তেমনটা হয় না। প্রতিটি সিরিজ শেষে ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং কোচরা মূল্যায়ন রিপোর্ট বা নোট দিলেও প্রধান কোচ সেগুলো বিসিবি বা নির্বাচদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন না বলে অভিযোগ। এভাবেই মূল্যায়ন রিপোর্ট চাপা দেওয়া হয় বছরের পর বছর। 

বিসিবির টেকনিক্যাল কমিটি থেকেও জাতীয় দলের বিদেশি কোচদের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয় না। কোচরা একদিন চুক্তির মেয়াদ শেষ করে দেশে ফিরে যান। অতীত হয়ে যায় ক্রিকেটারদের মূল্যায়ন রিপোর্ট। নতুন কোচ এসে শুরু করেন নতুনভাবে। ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজের ধারাবাহিকতাও ছেদ পড়ে।