ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লড়াই করতে চায় বাংলাদেশ। আগামীকাল সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন সামি জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়। সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশের একমাত্র বেসরকারি ক্রীড়া চ্যানেল টি স্পোর্টস।

সিরিজের প্রথম টেস্টে অ্যান্টিগায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে সাত উইকেটে হার মেনে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল টাইগারদের। ব্যাটিং ইউনিটের ব্যর্থতার কারণে চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই জয় বাগিয়ে নিতে সক্ষম হয় ক্যারিবীয়রা। তবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের হারের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে ভালো পারফর্ম করে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে মরিয়া সফরকারীরা।

সেন্ট লুসিয়াতে সবমিলিয়ে বাংলাদেশ দুটি টেস্ট খেলেছে। ২০০৪ সালে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে প্রথম টেস্ট খেলার পর ২০১৪ সালে মুশফিকের নেতৃত্বে খেলা হয় দ্বিতীয়বার। শেষবার সফল না হলেও হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো দাপটের সঙ্গে টেস্ট ম্যাচ ড্র করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। ওই টেস্টে বাংলাদেশের তিনজন ব্যাটার সেঞ্চুরি করেছিলেন। হাবিবুল বাশার ১৩১ বলে ১১৩, মোহাম্মদ রফিক ১৫২ বলে ১১১ এবং খালেদ মাসুদ পাইলট ২৮১ বলে ১০৩ বলে অপরাজিত ছিলেন। এর আগে এক টেস্টে ছিল কেবল দুই জনের সেঞ্চুরি ছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে জাভেদ ওমর ও হাবিবুল বাশার সেঞ্চুরি করেছিলেন। 

ওই টেস্টের আগে লাল-সবুজরা ২৮ টেস্টে কেবল দুটি টেস্ট ড্র করেছিল। বাকি সবকটিতে ছিল হার। সেই দুই ড্রও বাংলাদেশ পেয়েছিল বৃষ্টির বদৌলতে! সেন্ট লুসিয়ায়তেই কেবল বাংলাদেশ পেয়েছিল গৌরবের এক ড্র। সেন্ট লুসিয়ার সেই টেস্টটা ছিল বাংলাদেশের জন্য জয়ের থেকেও বেশি। তাই ২০০৪ সালের সেই সেন্ট লুসিয়ার টেস্টের ইতিহাস আশা জাগাচ্ছে বাংলাদেকে।

প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে বেশ ভুগিয়েছে টপ অর্ডার ব্যাটাররা। ফলে সেন্ট লুসিয়ায় একাদশে পরিবর্তন আসতে পারে। বাদ পড়তে পারেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার জায়গায় টেস্ট দলে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে এনামুল হক বিজয়ের। দলে আরও একটি পরিবর্তন হতে পারে। মুস্তাফিজুর রহমানকে বিশ্রাম দিয়ে একাদশে থাকতে পারেন শরিফুল ইসলাম। টানা ব্যাটিং ব্যর্থতার পর আরও একটি সুযোগ পাচ্ছেন সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক। একাদশের বাকি জায়গাগুলো অপরিবর্তনীয় থাকবে।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ

তামিম ইকবাল, মাহমুদুল হাসান জয়, এনামুল হক বিজয়, মুমিনুল হক, লিটন কুমার দাস (সহ-অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), নুরুল হাসান সোহান (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, এবাদত হোসেন, শরিফুল ইসলাম ও খালেদ আহমেদ।