‘এটা ২৩০ রানের উইকেট নয়।’ একই কথা সেন্ট লুসিয়া টেস্টের প্রথম দিন শেষে বলেছিলেন ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স। দ্বিতীয় দিন শেষেও বললেন রাসেল ডমিঙ্গো। সঙ্গে তিনি বলেছেন, টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কেন বাংলাদেশের চেয়ে ভালো সেটা ওরা দেখিয়ে দিয়েছে।

সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করে ২৩৪ রান। জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৪০ রান করেছে। লিড নিয়েছে ১০৬ রানের। কাইল মেয়ার্স ১২৬ রানে অপরাজিত আছেন। হেড কোচ ডমিঙ্গোর মতে, ৩০-৪০ এবং ১২৬ রানের মধ্যে এটাই পার্থক্য। 

সংবাদ মাধ্যমের সামনে এসে ডমিঙ্গো বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ব্যাটিং এবং বোলিং নিয়ে কিছু সিরিয়াস প্রশ্ন থেকে গেছে। এটা কোনভাবেই ২৫০ রানের উইকেট না। শেষে ওই ৩০ রানের জুটি না হলে আমরা ১৯০ রানে আটকে যেতাম। ব্যাট হাতে দলগত পারফরম্যান্স হয়নি।’ 

ডমিঙ্গোর তীর যেন ব্যাট হাতে সেট হওয়া তামিম-লিটনের দিকে। টেস্টে দ্রুত আউট হওয়ার চেয়ে সেট হয়ে আউট হওয়াই যেন বেশি পাপ তার চোখে, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ দেখিয়ে দিয়েছে কেন ওরা টেস্টে আমাদের চেয়ে ভালো। তাদের একজন সেঞ্চুরি পেয়েছে এবং দল বড় রান পেয়ে গেছে। তারা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং করতে হয়।’

 নাজমুল শান্ত রান পাচ্ছেন না। মুমিনুল বাদ পড়েছেন। দ্রুত রান তুললেও বড় ইনংস খেলতে পারেননি তামিম। মাহমুদুল জয়ও শেষ চার টেস্টে বাজে ব্যাটিং করেছেন। ডমিঙ্গো মানছেন, তার ব্যাটাররা রানের খোঁজে আছেন। তবে রান করতে দীর্ঘক্ষণ উইকেটে থাকতে হবে। এর কোন বিকল্প দেখেন না কোচ। 

অল্প পুঁজি নিয়ে অবশ্য সেন্ট লুসিয়ায় ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছিলেন বোলাররা। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে তুলে নিয়েছিলেন চার উইকেট। কিন্তু পরের দুই সেশনে মাত্র একটি উইকেট হারিয়ে শক্ত অবস্থান নিয়েছে ক্যারিবীয়রা। ব্যাটে কিংবা বলে বাংলাদেশ এক সেশনে ভালো করছে, তো অন্য সেশনে খারাপ। এটাই দলকে পিছিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন ডমিঙ্গো। 

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের টেস্ট ক্রিকেটের গল্পটা হলো, এক সেশনে আমরা ভালো করছি, অন্য সেশনে খারাপ করছি। ছেলেরা ধৈর্যহারা হয়ে যাচ্ছে এবং বল হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করতে পারছে না।’