ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই আগুন ঝরানো পেস আক্রমণের ইতি ঘটেছে বহু আগেই। হোল্ডিং-গার্নার-মার্শালদের পথ ধরে কোর্টনি ওয়ালশ এবং কার্টলি আমব্রোস বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করেছেন। 

তাদের পর আর আগুন ঝরানো বোলিং জুটি পায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গতি-আগ্রাসন মিলিয়ে প্রতিপক্ষকে ত্রস্ত করে রাখার মতো পেসারও পায়নি বলা চলে। ওই আগ্রাসন না থাকলেও পেস-সুইং দিয়ে একজন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস বোলিংয়ের পতাকা উড়িয়ে গেছেন। 

তিনি কেমার রোচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ডানহাতি এই পেসার রোববার সেন্ট লুসিয়া টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে আড়াইশ’ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন। তামিম ইকবালকে ফিরিয়ে ওই কীর্তি স্পর্শ করেন তিনি। পরে তুলে নেন মাহমুদুল জয় ও এনামুল হককে।  

কেমার রোচের টেস্টে আাইশ’ উইকেট। ছবি: এএফপি

রোচ আড়াইশ’ উইকেট নেওয়ার পথে স্যার গ্যারি সোবার্স (২৩৫) ও মাইকেল হোল্ডিংয়ের (২৪৯) মতো কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে গেছেন। জোয়েল গার্নারকে (২৫৯) ছাড়াতে মাত্র আট উইকেট দরকার তার। 

এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাত্র ষষ্ঠ বোলার হিসেবে আড়াইশ’ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি। ৩৩ বছর বয়সী ইনজুরি প্রবণ রোচের সামনে সুযোগ আছে চতুর্থ অবস্থানে থাকা রিচার্ড গিবসকেও (৩০৯) ছাড়িয়ে যাওয়ার। তবে সেরা তিনে থাকা তিন কিংবদন্তি কোর্টনি ওয়ালাস (৫১৯), কার্টলি আমব্রোস (৪০৫) ও ম্যালকম মার্শালের (৩৭৬) কাছে যেতে পারবেন না। 

এই কেমার রোচের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে। কঠিন এক সময়ে। বেতন-ভাতার দাবিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মূল ক্রিকেটাররা ওই সিরিজে খেলতে অপারগতা জানায়। ড্যারেন স্যামির নেতৃত্বে ২০ বছরের রোচকে নিয়ে পেস আক্রমণ সাজায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়ানডে ও টেস্টে সেবার ক্যারিবীয়রা ধবলধোলাই হয়েছিল। তবে একজন রোচ ওই সিরিজ দিয়ে উঠে এসেছিলেন।