লেজে আঘাত পাওয়া গোখরো যেমন ফণা তোলে তেমনি বেন স্টোকসের অধীনে ইংল্যান্ড টেস্ট দল দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যে দলটা জয়ের স্বাদ ভুলতে বসেছিল, তারাই ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে তিন টেস্টেই হারিয়ে ধবলধোলাই করেছে।  

হেডিংলিতে সিরিজের শেষ টেস্টে ২৯৬ রানের লক্ষ্য পেয়েছিল ইংল্যান্ড। টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ওই রান তোলা সহজ কাজ নয়। প্রতিপক্ষ আবার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী নিউজিল্যান্ড। কিন্তু উড়ন্ত আত্মবিশ্বাসী ইংলিশরা ওয়ানডে গতিতে রান তুলে ৭ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে। 

জনি বেয়াস্টো টি-২০ গতিতে ব্যাটিং করেছেন। জো রুট রান তুলেছেন ওয়ানডের মতো। তিনশ’ ছোঁয়া রান তারা মাত্র ৫৪.২ ওভারে তুলে ফেলেছে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অ্যালেক্স লিস ৯ করে ফিরে যান। অন্য ওপেনার জ্যাক ক্রলি করেন ২৫ রান। 

ছবি: এএফপি

এরপর তিনে নামা অলি পপ ও চারে নামা জো রুট দুর্দান্ত শুরু করেন। তারা ১৩৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে তুলে নেন। পোপ ফিরে যান ১০৮ বলে ১২ চারে ৮২ রান করে। জো রুট খেলেন ১২৫ বলে হার না মানা ৮৬ রানের ইনিংস। ১১ চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা জনি বেয়ারস্টো ৪৪ বলে হার না মানা ৭১ রানের ইনিংস খেলেন। নয়টি চার ও তিনটি ছক্কা মারেন তিনি। 

এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩২৯ রান করে নিউজিল্যান্ড। শুরুতে উইকেট হারালেও ডার্লি মিশেল ১০৯ রানের ইনিংস খেলেন। তার সঙ্গে টম ব্লান্ডেল ৫৫ রান করে ভালো জুটি দেন। জবাবে ইংল্যান্ড ২১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যায়ে পড়ে। ওই জায়গা থেকে ১৬২ রানের ইনিংস খেলেন জনি বেয়ারস্টো। জেমি ওভারটন করেন ক্যারিয়ার সেরা ৯৭ রান। ইংল্যান্ড ৩৬০ রান তুলে লিড নেয় ৩১ রানের। 

দ্বিতীয় ইনিংসে ৩২৬ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। দলের পক্ষে টম ল্যাথাম ৭৬, কেন উইলিয়ামসন ৪৮ রান করেন। পরে ডার্লি মিশেল ৫৬ ও টম ব্লান্ডেল করেন ৮৮ রান। ধবলধোলাই এড়াতে ২৯৫ রানের সংগ্রহ পায় তারা। কিন্তু উড়ন্ত ইংল্যান্ডের কাছে পাত্তা পেল না সফরকারী দলটি। দুই ইনিংসেই বেয়ারস্টো দুর্দান্ত ব্যাটিং করলেও ম্যাচ সেরা হয়েছেন দুই ইনিংসেই পাঁচটি করে উইকেট নেওয়া জ্যাক লিচ।