সাদা পোশাকে বাইশ গজে ফের ব্যর্থতার পরিচয় দিল বাংলাদেশ। বাইশ বছর ধরে টেস্ট খেলেও দলের মধ্যে নেই কোনো পরিণতবোধ। মাঝেমধ্যে দুই-একটি জয় ছাড়া টেস্টে বলার মত কোনো নজির গড়তে পারছে না বাংলাদেশ। সর্বশেষ সেন্ট লুসিয়া টেস্টও বাজেভাবে হেরেছে সাকিব-তামিমরা। ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ২২ বছরে ১৩৪তম ম্যাচে এসে হারের সেঞ্চুরি করেছে বাংলাদেশ।

এতে এক লজ্জার রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছে টাইগাররা। সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে দ্রুততম হারের সেঞ্চুরি পেয়েছে বাংলাদেশ। এত কম সময় এবং এত কম ম্যাচ খেলে আর কোন দল এই দুঃস্বপ্নের রেকর্ডে পা রাখেনি। অর্থাৎ সবমিলিয়ে ১৩৪ ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশের জয় মাত্র ১৬ ম্যাচে, ড্র হয়েছে ১৮টি ম্যাচ, বাকি ১০০ ম্যাচে হার। একটি জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশ হেরেছে ছয়টির বেশি ম্যাচ। বিশ্ব ক্রিকেটে জয়-পরাজয়ের অনুপাতে এতো পার্থক্য নেই আর কোনো দলের।

বাংলাদেশের আগে এই রেকর্ড ছিল নিউজিল্যান্ডের। বাংলাদেশের চেয়ে ১০৭ ম্যাচ বেশি খেলে এমন রেকর্ড গড়েছিল কিউইরা। তাদের লেগেছিল ২৪১ ম্যাচ। সময় ৬৫ বছর। এমনকি বাংলাদেশের চেয়ে জিম্বাবুয়েরও জয়-পরাজয়ের হার ভালো। এখন পর্যন্ত ১১৫ ম্যাচ খেলে হেরেছে ৭৪টি, জিতেছে ১৩ ম্যাচে। অর্থাৎ সামনের ২৬ টেস্টের সব হারলেও পরাজয়ের সেঞ্চুরি করতে তাদের লাগবে ১৪১ ম্যাচ।

সবচেয়ে বেশি ৩১৬টি টেস্ট হেরেছে ইংল্যান্ড। তারা খেলেছে সবচেয়ে বেশি ১০৫১ ম্যাচ। যেখানে জিতেছে ৩৮১ ম্যাচে। ইংল্যান্ডের চেয়ে বেশি জয় রয়েছে শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ার। তারা ৮৪২ ম্যাচ খেলেছে জিতেছে ৩৯৯টি, হার ২২৬ ম্যাচে।

শ্রীলঙ্কা সর্বশেষ ২০১৭ সালে টেস্ট হারের সেঞ্চুরি করেছিল। এই রেকর্ডে নাম উঠাতে তারাও খেলেছিল ২৬৬ টেস্ট। ভারত ১০০ টেস্ট হেরেছিল ৩০৩ ম্যাচে। পাকিস্তানের লেগেছিল ৩৫৭ টেস্ট। একশো ম্যাচ হারতে দক্ষিণ আফ্রিকা খেলেছিল ২৭৯টি ম্যাচ। শততম টেস্ট হারে অস্ট্রেলিয়ার দরকার হয়েছিল ৩৭৪ টেস্ট৷ ইংল্যান্ডের ৩৪৭ টেস্ট। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেগেছিল ৩৬৮ ম্যাচ।