হেডলাইন দেখে অনেকেই হয়তো চমকে উঠেছেন। ভাবছেন, এতদিন জানতেন একজন নেইমার, এখন আরেকজন এলো কোথা থেকে? হ্যাঁ, এমন প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খেতেই পারে। তবে কাগজে-কলমে একজন নেইমারের নাম থাকবে ঠিকই; কিন্তু স্কোয়াডে দু'জন নেইমার! 

ওই দু'জনকে নিয়ে নভেম্বরে কাতারের পথে রওনা করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নেইমারের নাম বললে সবার চোখের সামনে বর্তমানে পিএসজিতে খেলা নেইমার জুনিয়রের কথাই ভেসে উঠবে। বাকিজন তাহলে কে? নাম তার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। 

দু’জনের নামের দুই শব্দের একটিতে মিল আছে অবশ্য। বাকি এক শব্দে মিল না থাকলেও তার খেলার ধরন অনেকটাই নেইমারের মতো। তবে ব্রাজিল কোচ তিতের চোখে তাঁর দুই নেইমার দু’রকম। একজন বেশ পরিণত। আরেকজন পরিণত জনের দেখানো পথ ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে। 

এগিয়ে যাওয়া জনকে তিতে দেখছেন ২০১৪ বিশ্বকাপের নেইমার হিসেবে। অর্থাৎ এবারের বিশ্বকাপে নেইমারের সঙ্গে ২০১৪ সালের নেইমারও মাঠ মাতাবেন। আর দু'জনকে নিয়েই হলুদ জার্সিধারীদের যত আশা ভরসা। যতটা সম্ভব ভিনির দক্ষতা কাজে লাগানো যায়, সেই অঙ্কই করছেন তিতে।

সম্প্রতি ব্রাজিলের 'সিক্স স্টার পডকাস্টে' দেওয়া সাক্ষাৎকারের বেশিরভাগ অংশেই ভিনিকে নিয়ে আলোচনা করেছেন তিতে। যেখানে ব্রাজিল বস বলেন, ‘যখন আমরা অনুশীলন করতাম আমি ভিনিকে বলতাম, তুমি আমাদের ২০১৪ সালের নেইমার। কারণ সে সময় নেইমার বার্সায় ও জাতীয় দলে খেলত উইঙ্গার হিসেবে, বর্তমানে তার দায়িত্বটা সেন্টারে।’

এদিকে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে দারুণ ফর্মে এখন ভিনিসিয়ুস। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিয়মিত গোল উদযাপন করেছেন। বিশেষ করে লস ব্লাঙ্কোসদের গোলমেশিন করিম বেনজেমার সঙ্গে তার রসায়নটা ছিল দেখার মতো। যেটা মুগ্ধ করেছে তিতেকেও। সেজন্য বিশ্বকাপের আগে রিয়ালের কোচ কার্লো আনচেলত্তির দ্বারস্থ হন। জানতে চান, রিয়ালে তিনি কোন কৌশল অবলম্বন করেন। ভিনির থেকে সেরাটা আদায় করতে তার ট্যাকনিকটা কী।

এ নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন ব্রাজিল কোচ, 'রিয়ালে ভিনির পরিপক্ক হতে দুই বছরের মতো লেগেছিল। যেটা জাতীয় দলে আরও দ্রুত হচ্ছে। আসলে এটা প্রাকৃতিক। আমি আনচেলত্তিকে বললাম আমাকে কিছু পরামর্শ দিতে, যেটা সে রিয়ালে অনুসরণ করে। কিংবা কোন কৌশলে সে ভিনি থেকে সেরাটা নিচ্ছে। যেটা জানলে আমিও জাতীয় দলে প্রয়োগ করতে পারব এবং দলের জন্য ইতিবাচক হবে।’

প্রতি চার বছর পরপর জুন-জুলাইয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল হলেও এবার আয়োজক দেশ কাতারের কন্ডিশন বিবেচনায় শীতকালে হবে বিশ্বকাপ। ২১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার আসরটি শেষ হবে ১৮ ডিসেম্বর। প্রথমবারের মতো আরব বিশ্বে হবে ফুটবলের এই মহারণ। কাতারের আটটি ভেন্যুতে ৩২ দলের এই মহাযজ্ঞে পরিষ্কার ফেভারিট ব্রাজিল। তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার মিশেলে চমৎকার একটা দল নিয়ে কাতার জয় করার আশা দলটির। গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ সার্বিয়া, সুইজারল্যান্ড ও ক্যামেরুন। ২৪ নভেম্বর সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ব্রাজিল।