২০০২; ব্রাজিলের সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের বছর। যে সর্বশেষের অনেকটা অংশ জুড়ে আছে রিকোর্ডো কাকার নাম। কোরিয়া-জাপানের মঞ্চে সেবার হয়েছিল হলুদ উৎসব। সেই উৎসব যেন ভুলতে বসেছে ব্রাজিল। লম্বা সময় নেই সোনালি ট্রফির দেখা। গত কয়েকটি বিশ্বকাপে বারবার হোঁচট খাওয়া ব্রাজিলকে নিয়ে এবার স্বপ্ন দেখছেন সেই কাকা। সম্প্রতি ফিফা প্লাসে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন সেই আশাবাদ

প্রশ্ন :বিশ্বকাপ নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতাটা বলবেন?

কাকা :এটা খুবই স্মৃতিময়। যখন আমি ছোট তখন থেকেই স্বপ্ন দেখতাম একদিন বিশ্বকাপ খেলব। এরপর যখন ব্রাজিল দলে নাম লেখাই, মনে হলো একটা বিশ্বকাপ খুব দরকার। এখন পুনরায় একজন দর্শক হিসেবে চাই ব্রাজিল আরেকটা ট্রফি জিতুক।

প্রশ্ন :পরিসংখ্যান বলছে ব্রাজিল ক্রমেই শক্তিশালী দল হয়ে উঠছে। কাতারের মঞ্চে তাদের থেকে কেমন আশা করছেন?

কাকা :নাম্বার (পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন) দিয়ে অনেক কিছুই বিশ্নেষণ করা যায়। কিন্তু সব সময় আবার এই নাম্বারটা সবকিছু নয়। নাম্বারটা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। অবশ্য তিতের অধীনে দারুণ একটা দল দাঁড়িয়েছে; অন্তত ২০১৮ বিশ্বকাপের পর। সাধারণত একজন কোচ একটা বিশ্বকাপের পুরোটা সময় পেয়ে থাকে। আমি যদি ভুল বলে না থাকি, তিতে সেখানে (২০১৮ বিশ্বকাপের আগে) সময় পেয়েছিল দুই বছর। আর কোনো কোচ যদি বিশ্বকাপে ভালো ফল আনতে না পারে সে বরখাস্ত হয়, এটাও স্বাভাবিক। সেখানে তিতের বেলায় তেমন কিছু হয়নি। আমি মনে করি, এটা বেশ ইতিবাচক দিক তার জন্য। সব মিলিয়ে তিতে সময় পেল ছয় বছর। এই সময়ে তিতে চেষ্টা করেছে ভিন্নভাবে খেলতে, ভিন্ন দল নিয়ে কিংবা ভিন্ন কৌশলে ভালো কিছু করতে। কিছু বিষয় ব্রাজিলের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক। তারা সেরা (বাছাই পরীক্ষা) হয়ে বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে। সব টুর্নামেন্টেই শিরোপার জন্য লড়েছে। হয়তো তারা কোপা আমেরিকা জিততে পারেনি। তবে ফাইনাল তো খেলেছে। সেক্ষেত্রে আমি বলব, দীর্ঘ সময়ে পরিকল্পনার ফল খারাপ হবে না।

প্রশ্ন :ব্রাজিলের বর্তমান দলের কোন খেলোয়াড়কে নিয়ে আপনি স্বপ্ন দেখেন কিংবা কারা এবার চমকে দিতে পারে?

কাকা :ব্রাজিলের এটা সফল প্রজন্ম। যারা অলিম্পিকেও জিতেছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্বকাপের জন্য যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। আমি রাফিনহা, ভিনিসিয়ুস, অ্যান্তোনিদের কথা বলব, তারা নিজ নিজ ক্লাবে দারুণ ফর্মে আছে। যেটা জাতীয় দলেও সমভাবে দিতে পারবে বলে আশাবাদী। নেইমারকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। আমি বাকিদের বলব, আরও বেশি দায়িত্ব নিয়ে তাকে সহযোগিতা করতে যাতে সে সুযোগ বেশি বেশি তৈরি করে দলকে সাফল্য এনে দিতে পারে। এরপর আমি আরেকজনকে নিয়ে বলতে চাই, ফ্রান্সের এমবাপ্পে। যে কিনা বেশ ছন্দে। মেসি-ক্রিশ্চিয়ানোর হয়তো শেষ বিশ্বকাপ। তারা কী করে, সেদিকেও সবার নজর থাকবে। বাকিরা প্রতিদিন গোল করবে, জিততে কিন্তু এই দু'জনের পারফরম্যান্স হবে ভিন্ন। তারা এমন একটা ম্যাচে এমন কিছু করে বসবে, যেটা তার দলকে নিয়ে যাবে অনেক উঁচুতে। আসলে দিনশেষে বিশ্বকাপটাও বিস্ময়ের, সবসময়ই অবাক করারও।

প্রশ্ন :ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ! শেষের অনুভূতিটা আসলে কেমন হয়?

কাকা :এটা নির্ভর করে ব্যক্তিভেদে। জানি না সে কীভাবে নেয়। তবে আগামী কয়েক বছরে অনেক কিছু বদলাতে পারে। নির্ভর করবে তার ফিট থাকা, সে সক্ষম কিনা বা খেলাটা চালিয়ে যেতে চায় কিনা তার ওপর। সে তার পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে। আমি যদি ভুল করে না থাকি এটা সত্যিই উল্লেখযোগ্য এক কীর্তি। আমি চাই সে আরও তিনটি বিশ্বকাপে থাকুক।

প্রশ্ন :মধ্যপাচ্যে প্রথম বিশ্বকাপ, কী ভাবছেন?

কাকা :এটা এমন বিশ্বকাপে যা কিনা একটা শহরেই আমরা দেখতে যাচ্ছি। আপনি দিনে দু-তিনটি ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন। আপনি অন্য বিশ্বকাপে যেখানে তিন-চার এমনকি পাঁচটি শহরের সংস্কৃতিও জানতে পারতেন। এখানে মাত্র একটি। যেখানে অন্য ৩১টি দেশকে থাকতে হবে একই শহরে। এখন দেখার বিষয় লজিস্টিক টিম কীভাবে এসব ঠিকঠাক রাখে। সবার খাবার-দাবার সময়মতো পরিবেশন করা আমি বলব বড় একটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবু আমার বিশ্বাস, সব বিশ্বকাপই কোনো না কোনো একক সৌন্দর্য-অভিজ্ঞতা রেখে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।