কয়েকদিন আগেই শেষ হয়েছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। সাদা পোশাকে বিধ্বস্ত হওয়ার পর এবার রঙিন পোশাকে জেগে ওঠার পালা। তবে তার আগেই প্রমত্তা আটলান্টিকে ভয়ঙ্কর এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হল টাইগাররা।

সেন্ট লুসিয়া থেকে মার্টিনিক হয়ে ডমিনিকা যাওয়ার পথে এমনই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে টাইগারদের। যাত্রাপথে আটলান্টিক মহাসাগরে শুরুতে ক্রিকেটাররা রোমাঞ্চিত থাকলেও পরে অনেকেই আক্রান্ত হয়েছেন ‘মোশন সিকনেসে’।

তবে ডমিনিকা আসার পথে যারা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, সবাই এখন ভালো আছেন। দলের লজিস্টিক ম্যানেজার নাফিস ইকবাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সবাই এখন সুস্থ। কারও কোনো সমস্যা নেই। আমি স্থানীয় ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেছি। ওনারা বলেছেন, এ রকম সমস্যা অনেকের হতে পারে, তবে সেটা সাধারণত ৫-৬ ঘণ্টার মধ্যে কেটে যায়।’

ডমিনিকায় বাংলাদেশ দল আছে রাজধানী রোসো থেকে সড়কপথে ঘণ্টাখানেক দূরত্বের ক্যাবরিটস রিসোর্টে। আর টি-টোয়েন্টির ভেন্যু উইন্ডসর পার্ক রোসোতে। আজ দুপুরে সেখানেই অনুশীলন করার কথা বাংলাদেশ দলের। কিন্তু আটলান্টিকে সৃষ্ট সাইক্লোনের প্রভাবে এখানেও কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি।

বৃষ্টি হয়েছে কাল রাত এবং আজ সকালেও। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টি থাকার কথা কালও। উইন্ডসর পার্কে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটা তাই এই মুহূর্তে একটু অনিশ্চিতই বলা যায়। আর বৃষ্টি যদি শেষ পর্যন্ত বাধাই হয়ে দাঁড়ায়, সেটি হবে ডমিনিকাবাসীর জন্য চরম দুর্ভাগ্যের।

২০১৭ সালে প্রলয়ংকরী হারিকেন ‘মারিয়া’ লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল ডমিনিকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু উইন্ডসর পার্ককেও। এরপর গত পাঁচ বছরে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হতে পারেনি এই মাঠে। প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সংস্কার করা উইন্ডসর পার্কে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরার কথা বাংলাদেশ দলের দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়েই। ডমিনিকায় সে কারণেই রোমাঞ্চটা বেশি।

উইন্ডসর পার্কে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়েছে ২০১৭ সালে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তান সিরিজে। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এসে এ মাঠে দুটি ওয়ানডে খেলে দুটিতেই জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে বর্তমান টি-টোয়েন্টি দলের শুধু দুজন ক্রিকেটারই ছিলেন সেবারের দলে, অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসান।