বাংলাদেশ টাইগারের ৩১৮ রানের ইনিংসে চোখে পড়ার মতো ব্যক্তিগত স্কোর মাত্র দুটি- সৌম্য সরকারের ৮১ ও ফজলে মাহমুদ রাব্বির ৮৯ রান। এইচপির বিপক্ষে চার দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যাটিং থেকে টাইগারদের প্রাপ্তি বলতে এটুকুই। সৌম্য একটু দ্রুত রান তুললেও টেস্টের মেজাজ হারাননি। তবে জাতীয় দল নির্বাচকদের দৃষ্টি কেড়েছে ফজলে রাব্বির ইনিংসটি। পাঁচ ঘণ্টা ক্রিজে থেকে ১৮০টি বল খেলে ৮৯ রান করেন মিডল অর্ডার এ ব্যাটার। ম্যাচ ভেন্যু রাজশাহী থেকে রাব্বির ব্যাটিংয়ের উচ্ছ্বসিত প্রশংসাও করলেন দুই নির্বাচক হাবিবুল বাশার ও আব্দুর রাজ্জাক।

রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে এইচপির ২২৭ রানের জবাবে দুই হাফ সেঞ্চুরিতে ৩১৮ রান করে বাংলাদেশ টাইগার। সিনিয়রদের কাছে ৯১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে এইচপি। তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করে ৪ উইকেটে ১২৩ রানে। তৃতীয় দিনের উইকেট রান করার জন্য ভালো হলেও এইচপি ব্যাটারদের একজনও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।

তাই টপঅর্ডার ব্যাটারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না নির্বাচক বাশার, 'আমরা যেটা চাই টপঅর্ডার লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং করবে। এটা পাইনি কোনো দল থেকেই। সৌম্য রান করেছে। তবে ইনিংসকে সে আরও অনেক বড় করতে পারত। আমরা চাই সেট হওয়ার পর লম্বা সময় ধরে ব্যাট করবে টপঅর্ডার ব্যাটাররা।' ব্যাটিং মন ভরাতে না পারলেও বোলিং দেখে ভালো লেগেছে নির্বাচকদের। বাশারের মতে, 'উইকেটে প্রচুর ঘাস ছিল। বল সুইং করেছে। বাউন্সও ছিল। বোলাররা খুবই ভালো করেছে। এইচপির পেস বোলিং লাইনআপ বেশ শক্তিশালী। চার-পাঁচজন পেসার আছে যাদের দেখলে মনে হবে সত্যিকারের পেস বোলার। এই গরমের ভেতরেও ক্লান্তিহীন বোলিং করে গেছে ছেলেগুলো। টাইগারের হাসান মাহমুদ ও নাঈম হাসানের বোলিং ভালো হয়েছে।'

টাইগার দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল ৬ উইকেটে ১৯৪ রানে। আগের দিনের ৩৫ রান নিয়ে নতুনভাবে শুরু করেন রাব্বি। মাটি কামড়ে পড়ে থেকে রান বাড়াতে ধৈর্যের পরীক্ষা দেন ৩৪ বছর বয়সী এ ব্যাটার। ৮৯ রানের ইনিংসটি ১১টি বাউন্ডারি দিয়ে সাজান তিনি। বাঁহাতি এ ব্যাটারের ইনিংস নিয়ে বাশার বলেন, 'ফজলে রাব্বি খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। চার দিনের ম্যাচে যেমন ব্যাটিং করা দরকার ঠিক তাই করেছে। আমরা যে রকম ব্যাটিং চাই, ছাড়ার বল ছাড়বে। সে রকম হয়েছে। মারার বল মেরেছে। ১৮৪ বল খেলেছে। এক দিক থেকে উইকেট ধরে রেখেছে। ব্যাটিংয়ে কোনো তাড়াহুড়ো ছিল না। লাল বলে যে রকম ব্যাটিং করতে হয় তাই করেছে।' সৌম্য ৮১ রানের ইনিংসে গড়তে ১৩৬টি বল খেলেন। এইচপি পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী তিনটি, মুকিদুল ও রিপন দুটি করে উইকেট নেন।