একের পর এক ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় বিভিন্ন শহর দখলে নিচ্ছে রাশিয়া। সর্বশেষ লুহানস্ক প্রদেশ দখলের পর এখন রুশ বাহিনীর চোখ দক্ষিণের দোনেৎস্কে, যেখানে চালানো হচ্ছে গোলাবর্ষণ। এ অবস্থায় অঞ্চলটি রক্ষায় নতুন করে সামরিক বহর সাজাচ্ছে ইউক্রেন। লুহানস্ক দখলকে ক্রেমলিনের জন্য বড় বিজয় দাবি করে ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভদ্মাদিমির পুতিন। অন্যদিকে, দোনেৎস্কে মস্কোকে কোনোভাবেই জয়ী হতে না দেওয়ার প্রত্যয় কিয়েভের। রয়টার্স, আলজাজিরা ও কিয়েভ পোস্ট।
গতাকল মঙ্গলবার থেকে দোনেৎস্ক রক্ষায় প্রতিরক্ষা লাইনে শক্তি বাড়াতে মনোযোগী হয়েছে ইউক্রেন, প্রদেশটির বেশিরভাগ বড় শহরই এখনও কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা ওলেকসি আরেস্তোভিচ অনলাইনে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, লুহানস্কের পর আর জয়ের দেখা পাবে না মস্কো।
এদিকে, দোনেৎস্কের গভর্নর পাভলো কিরিলেঙ্কো বলেছেন, স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামতোস্ক শহরে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। তারা এখন শত্রুদের আক্রমণের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। দোনেৎস্ক অঞ্চলে গোলাবর্ষণ হচ্ছে না- এমন কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। রুশ বাহিনীর লুহানস্ক দখলকে তুলনামূলক দ্রুত ও আরও সমন্বিত বলেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির সর্বশেষ গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আরও সহজে তিন দিক থেকে আক্রমণ করতে সক্ষম হয় রাশিয়ান সৈন্যরা।
ইউক্রেনের লুহানস্ক প্রদেশ নিজেদের কবজায় নিতে বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে রুশ বাহিনীকে। দীর্ঘ ৪ মাসের লড়াইয়ে উভয়পক্ষই বিপুল সৈন্য হারিয়েছে। অবশেষে ইউক্রেনীয় সৈন্যরা পিছু হটলে নিজেদের দখলে নেয় রুশ বাহিনী।
কিয়েভ পোস্টের খবরে বলা হয়, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ (ইউএএফ) গতকাল মঙ্গলবার দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে ৩৬ হাজারের বেশি রুশ সেনার মৃত্যু ও হাজার হাজার সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক ফুটবল ইভেন্টে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করায় ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। গত রোববার কিয়েভে আইওসি প্রেসিডেন্ট থমাস বাখের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জেলেনস্কি। এ সময় তিনি রাশিয়া এবং তার মিত্র বেলারুশের বিরুদ্ধে ক্রীড়া নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তাঁর অটুট অবস্থানের
প্রশংসা করেন।
গত রোববার রাশিয়া লিসিচ্যাংস্ক শহর পুরোপুরি দখলে নেওয়ার মধ্য দিয়ে দনবাস দখলে রাশিয়ার লক্ষ্য অর্ধেক পূরণ হয়ে যায় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক মিলে দনবাস নামে পরিচিত, যা এরই মধ্যে মস্কোপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে দাবি রাশিয়ার।
গত মাসের শেষের দিকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় লুহানস্কের বৃহত্তম শহর সেভেরোদোনেতস্কের দখল নিয়েছিল রাশিয়া। আর দিন দু'য়েক আগে একই অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লিসিচানস্কের পতন হয় রুশ বাহিনীর হাতে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া।