বিশ্বের প্রায় সব ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর। টি২০-এর ফেরিওয়ালা তকমা ছিল কিছুদিন আগেও। সেই সাকিব আল হাসানের ব্যাট এখন ভেজা বারুদ, টি২০-এর বিস্ম্ফোরণ ঘটে না। যে বোলিংহস্ত রান দেওয়ায় কৃপণের সুখ্যাতি কুড়িয়েছিল, তা এখন উদার। 

বিশ্বের এক নম্বর ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএলে খেলা বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজের জাদুকরি কাটার স্লোয়ারে ধার কমে গেছে কবেই। সীমিত বোলিং ভেরিয়েশন দিয়ে ব্যাটারদের আগের মতো আর কাবু করতে পারেন না তিনি। দলের বাকিরা টি২০ বিশেষজ্ঞ ব্যাটার বা বোলার ছিলেন না কোনোদিনই। 

টি২০ প্রিয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ জমাতে পারেনি বাংলাদেশ। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা টাইগারদের পক্ষে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচের ফল ভোজবাজির মতো বদলে দেওয়া সহজ হবে না। গায়ানার প্রভিন্স স্টেডিয়ামের ব্যাটিং স্বর্গ স্বাগতিক পাওয়ার হিটারদেরই রাজত্ব। তবে টি২০ বলে কিছুটা আশা থাকেই। তাই মাহমুদউল্লাহরাও হয়তো চেষ্টা করবেন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলে সুযোগ নেওয়ার।

উইন্ডিজের মতো পাওয়ার হিটার নেই বাংলাদেশের। মাহমুদউল্লাহদের কাছ থেকে বিস্ম্ফোরক ব্যাটিংও দেখতে চান না টাইগার সমর্থকরা। তবে টি২০-র বিনোদন থাকে- এমন ব্যাটিং তো আশা করতেই পারেন তাঁরা। ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হওয়ার চেয়ে নিরাপদ বাউন্ডারি দেখার আনন্দও কম নয়। 

ছবি: বিসিবি

এই কৌশলে ব্যাটিং করার কথা চার বছর আগেই তো বলেছিলেন অধিনায়ক। বাংলাদেশি 'ব্র্যান্ড অব ক্রিকেট' খেলে দল হিসেবেও টি২০-তে শক্তিশালী হয়ে উঠতে চেয়েছিলেন তাঁরা। এই কয় বছরে ব্যাটিংকে বাংলাদেশি ব্র্যান্ডে রূপ দিতে পারেননি তাঁরা। তাই পুরোনো ব্র্যান্ডের ঘুণে ধরা ব্যাটিং প্রদর্শনই দেখতে হচ্ছে সমর্থকদের।

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি পরিত্যক্ত হলেও ব্যাটিং করেছিল বাংলাদেশ। নির্বিচারে বিস্ম্ফোরক শট খেলতে গিয়ে ১৩ ওভারেই ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল দল। ডমিনিকার উইন্ডসর পার্কের দ্বিতীয় ম্যাচে ক্যারিবীয়দের ১৯৩ রানের বিশাল স্কোর তাড়া করার তাড়নাটাই ছিল না ব্যাটারদের মধ্যে। ২৩ রানে তিন টপঅর্ডারকে হারানোর পর ২০ ওভার শেষ করার কৌশল নিয়ে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ব্যাট করে গেছেন সাকিব। এ নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি বাঁহাতি এ অলরাউন্ডারের। আশা করা যায়, গায়ানার রানের স্বর্গে হাত খুলে ব্যাট করবেন সাকিব-বিজয়-লিটনরা।

এই ভেন্যুতে বাংলাদেশ শেষ খেলেছিল ২০০৭ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে। টি২০ ম্যাচ খেলবে এই প্রথম। উইকেট দেখে মুস্তাফিজের কাছে মনে হয়েছে রান হবে ম্যাচে। ভালো ব্যাটিং করা গেলে ২০০ রান উঠতে পারে স্কোর বোর্ডে। এই কথায় একটি বার্তাও দিয়ে ফেলেছেন মুস্তাফিজ। গায়ানায় বোলারদের কিছুই করার থাকবে না। তাঁরাও তাকিয়ে থাকবেন ব্যাটারদের দিকে। ডমিনিকায় বৃষ্টি বাধা হলেও গায়ানায় আজ রোদ ঝলমলে দেখাচ্ছে বিসিবির আবহাওয়া বিভাগ। যদিও মৌসুমি বৃষ্টির কারণে মঙ্গলবার অনুশীলন করতে পারেনি বাংলাদেশ দল।