এমন অভিজ্ঞতা মুশফিকের খুব বেশি নেই। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়-ঝঞ্ঝা যে মানুষটিকে মাঠ থেকে দূরে রাখতে পারে না, সে মানুষটি আড়াই মাস ধরে ক্রিকেটে নেই! করোনাভাইরাস শুরুর সময়টা বাদ দিলে চোট ছাড়া এত দিন মাঠের বাইরে ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে কখনোই ছিলেন না মুশফিক। তিনি যে ম্যাচ খেলার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছেন, সেটা বোঝা গেছে জিম্বাবুয়ে যাওয়ার আগে অনুশীলনের সময়ই। আজ সে অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে আজ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

প্রায় আড়াই মাসের বিরতি হলেও মুশফিক মিস করেছেন কেবলমাত্র একটি সফরে। হজ পালনের জন্য ছুটি নেওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ছিলেন না তিনি। তাতেই যেন তর সইছে না তাঁর। হজ থেকে ফিরে দিন দুয়েকের মধ্যেই মাঠে নেমে পড়েন। এত দ্রুত অনুশীলন শুরুর পেছনে অবশ্য আরেকটি কারণ ছিল। মুশফিকের প্রত্যাশা ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি২০ সিরিজ দিয়ে ক্রিকেটে ফেরার। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন পরিকল্পনায় তাঁর সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

সিনিয়রদের বিশ্রাম দিয়ে জিম্বাবুয়েতে নুরুল হাসান সোহানের নেতৃত্ব নতুন একটি দল পাঠানো হয়। যদিও সোহান চোট পাওয়ায় এ নীতিতে অটল থাকতে পারেনি বিসিবি। তৃতীয় টি২০ ম্যাচের আগে ঠিকই মাহমুদউল্লাহকে ডাকেন তাঁরা। তবে এ 'বিশ্রাম' যে মুশফিকের ভেতরে একটা ক্ষোভ তৈরি করেছে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। জিম্বাবুয়ে সফরের টি২০ দল ঘোষণার পর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দিয়ে তিনি সেটা কিঞ্চিৎ প্রকাশও করেছেন। পরে বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় একেবারে চুপ হয়ে যান মুশফিক।

মুশফিকের এই নীরবতা বাংলাদেশ দলের জন্য একদিক থেকে কিন্তু ভালো। একে তো এসব বিতর্ক সামনে আসা বন্ধ হলো, সে সঙ্গে মুশফিকের এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে ব্যাটে। অতীতেও দেখা গেছে, কোনো সমালোচনা কিংবা বিতর্কের জবাব মুশফিক ব্যাটে দিতেই বেশি পছন্দ করেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকের ভালো পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্যও বেশ প্রয়োজন। যদিও টি২০'র পারফরম্যান্স ওয়ানডেতে খুব একটা প্রভাব পড়ে না। এই যেমন ক'দিন আগে উইন্ডিজের বিপক্ষে টি২০ নাজেহাল হলেও প্রিয় ওয়ানডেতে টাইগাররা ঠিকই দাপট দেখিয়েছে।

তাই প্রত্যাশা থাকবে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও টি২০ সিরিজ হারের প্রভাব ওয়ানডেতে পড়বে না। তার ওপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রেকর্ডটাও বেশ ভালো। গত ৯ বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে হারেনি বাংলাদেশ। এ ধারাকে এগিয়ে নিতে অবশ্যই মিডল অর্ডারে মুশফিকের ব্যাটে রান প্রয়োজন। তবে ইদানীং ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকের পারফরম্যান্স কিন্তু খুব একটা ভালো না। তাদের বিপক্ষে দুই সেঞ্চুরির সর্বশেষটি করেছিলেন তিনি সাত বছর আগে। সে অপেক্ষা ফুরানোর সুযোগও মুশফিকের সামনে।