এক ইনিংসে জোড়া সেঞ্চুরি। জিম্বাবুয়ের ওয়ানডে ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা। এমন প্রাপ্তির ম্যাচে বাংলাদেশকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ১০ বল থাকতে তুলে নিয়েছে ৫ উইকেটের বড় জয়। টি-২০ সিরিজ জেতা স্বাগতিকরা লিড নিয়েছে ওয়ানডে সিরিজেও।

হারারে স্পোর্টের ক্লাবের উইকেট ছিল ব্যাটিং সহায়ক। শুরুতে ব্যাটিং করা একটু কঠিন। রান তাড়া কিছুটা সহজ। সাহসী সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক রেগিস চাকাভা। ব্যাটিংয়ে পাঠান তামিমদের। সাবধানী ব্যাটিংয়ে ভালো শুরু পেয়ে যায় বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটি ভাঙে ২৫.৪ ওভারে ১১৯ রানে। অধিনায়ক তামিম ইকাবাল ৮৮ বলে আট চারে ৬২ রানের ইনিংস খেলে ফিরে যান। 

লিটন দাসের সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় ৩ বছর পরে ওয়ানডে দলে ফিরে এনামুল হক ভালো শুরু করেন। তাদের জুটি ভাঙে লিটন হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি নিয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়লে। ফর্মে থাকা ওপেনার ৮৯ বলে আট চার ও এক ছক্কায় ৮১ রান যোগ করেন। সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন তিনি। টি-২০ ফরম্যাটে সেরাটা দিতে না পারা এনামুল হক ৬২ বলে ৭৩ রান করেন। ছয়টি চার ও তিন ছক্কার শট দেখান তিনি। 

বাংলাদেশ সহজে তিনশ’ রান তোলার পথে ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২ উইকেট হারিয়েও ৩০৩ রান তোলাও কঠিন হয়ে যায়। মুশফিকুর রহিম ৪৯ বলে পাঁচটি চারের শটে ৫২ রান যোগ করেন। স্লগে দলের প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে বিশ্রাম নেওয়া এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ ১২ বলে তিন চারে ২০ রান করেন। 

চার ব্যাটার ফিফটি করে জয়ের পাওয়ার মতো রান এনে দিয়েছিল দলকে। কিন্তু বোলাররা সেরাটা দিয়ে ওই রান আটকাতে পারেননি। জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা ও ইনোসেন্ট কায়া বুঝিয়ে দিয়েছেন চার ফিফটির চেয়ে দুই সেঞ্চুরির জোর অনেক বেশি। অথচ স্বাগতিক দলটি প্রথম দুই ওভারেই দুই উইকেট হারিয়েছিল।

সেখান থেকে ওয়েলসি মেধেভেরে এবং তিনে নামা ইনোসেন্ট কায়া ৫৬ রান যোগ করেন। চতুর্থ উইকেট জুটিতে কায়া ও রাজা জিম্বাবুয়ের ওয়ানডের তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৯২ রানের জুটি গড়েন। চতুর্থ ওয়ানডে খেলতে নামা কায়া ১২২ বলে ১১ চার ও দুই ছক্কায় ১১০ রানের ইনিংস খেলেন। প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পান।

সিকান্দার রাজা ১০৯ বলে ১৩৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। তিনি আটটি চার ও ছয়টি ছক্কার শট দেখান। শেষ দিকে বলের সঙ্গে রান তোলায় পাল্লা দিতে লুক জনজি ১৯ বলে ২৪ রান করেন। বাংলাদেশের বোলাররা ছিলেন খরুচে। ভরসার পেস আক্রমণ ভালো করতে পারেনি। মুস্তাফিজ ও শরিফুল একটি করে উইকেট পেলেও ছয়ের ওপরে রান দিয়েছেন। তাসকিন ছিলেন উইকেট শূন্য। উইকেট পাননি নিয়মিত স্পিনার মেহেদি মিরাজ। তামিমের চার নিয়মিত বোলার নিয়ে খেলার সিদ্ধান্তও ভুল প্রমাণিত হয়েছে।