ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া স্কয়ারের পাশেই বার্মিংহাম লাইব্রেরি। তার সামনেই বিশালাকৃতির ষাড়! অস্থায়ীভাবে রাখা এই বুল রিংয়ের সঙ্গে ছবি তুলতে সকাল থেকেই লাইব্রেরির সামনে ভিড় লেগে থাকে। নানান বয়সী লোকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে তা। 

সিটি সেন্টার, নিউ স্ট্রিট; সব জায়গাতেই ছোট বড় বুল রিং চোখে পড়েছে। আসলে কমনওয়েলথ গেমসে নিজেদের নানান ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে নানান পরিকল্পনা করে আয়োজকরা। বার্মিংহামের ঐতিহ্যবাহী বুল রিং যেন গেমসের প্রতীক।

বুল রিংয়ের সামনে ভিড়। ছবি: সমকাল

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গর্জন তুলে আলেক্সজান্ডার স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেছিল দৈত্যকার ষাড়। তবে আসল বুল রিং দেখতে হলে যেতে হবে সিটি সেন্টারের পাশে। সেখানে রয়েছে বুল রিংয়ের মূর্তিটি। এটি সিটি সেন্টারের ব্রিজের মাধ্যমে গ্র্যান্ড সেন্ট্রালের শপিংমলের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বুল রিংয়ের নামকরণ কীভাবে হয়েছে।

যদিও কেউ সঠিকভাবে কোনো সাল বলতে পারেননি। তবে যতটুকু জানা গেছে, ১৮৩৯ সালে স্থাপিত হয় বুল রিংয়ের মূর্তিটি। আর এই বুল রিং জায়গাটি আগে ভূট্টার মার্কেট হিসেবে পরিচিত ছিল। তখন নাম ছিল কর্ন চিপিং। এখানে ষাড়গুলোকে জবাই করার আগে একটি লোহার রিং এর ভেতরে বেটিং করার জন্য বেঁধে রাখা হতো। সেই থেকে জায়গাটি বুল রিং নামেই পরিচিতি লাভ করে।

কমনওয়েলথ গেমসের প্রতীক যেন এই বুল রিং। ছবি: সমকাল

বুল রিংয়ের মূর্তি পার হয়ে একটু সামনে যেতেই চোখে পড়বে বাংলাদেশের মতো খোলা মার্কেট। অনেকেই বলেছেন, এই মার্কেটের বয়স নাকি ৮৬৮ বছর। তার মানে শুরু হয়েছিল সেই ১১৫৪ সালে! যদিও এর কোনো দলিল পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন তথ্যসূত্র থেকে যেটুকু পাওয়া গেছে, তাতে ১৮৭০ সালে বার্মিংহামের মূল গির্জার পূর্ননির্মানের সময় আবিষ্কার করা হয় বুল রিং মার্কেট। 

আমুদে শহর বার্মিংহামের মানুষজন সারাদিন কাজ শেষ করে ভিড় জমায় সিটি সেন্টারে। সেখানে অবস্থিত বুল রিং মার্কেট, যেখানে কম দামে পাওয়া যায় অনেক জিনিস। বাংলাদেশের মতোই মার্কেট। খোলাবাজারে ফলমূল, মাছ, তরকারীসহ সবকিছু্‌ই পাওয়া যায়। জামা-কাপড়ের দোকান, নারীদের প্রসাধনী কী নেই বার্মিংহামের ঐতিহ্যবাহী এই মার্কেটে! ঐতিহ্যকে ধারণ করে চলা ইংলিশরা সভ্যতা ধ্বংস করে না। সেই জন্যই এতদিন ধরে টিকে আছে মার্কেটটি।