জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডেতে হারা ভুলেই গিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১৪ সাল থেকে শুধুই জয়ের রেকর্ড। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে এ দুই দল মুখোমুখিতে একপেশে ম্যাচ দেখায় অভ্যস্ত হয়ে গেছেন দর্শক। সেই জিম্বাবুয়ের কাছে হার কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচটি স্বাগতিকদের কাছে হেরে যাওয়ায় সমর্থকরা হতাশায় নিমজ্জিত। আসলে জয় দেখে অভ্যস্ত চোখ হার দেখতে চায় না। তামিম ইকবালরা হারারে থেকেও নিশ্চয়ই সমর্থকদের এই আবেগ অনুধাবন করতে পারছেন। এই হতাশার ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার একটিই পথ খোলা রয়েছে, আজ সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় ম্যাচ জিততে হবে টাইগারদের। বাংলাদেশের জন্য তাই দ্বিতীয় ওয়ানডেটি হয়ে উঠেছে মর্যাদার লড়াই। যেখানে জয় ছাড়া বিকল্প ভাবার সুযোগ নেই তামিমদের।

বিশ্বকাপ সুপার লিগের সিরিজ শুরু হওয়ার পর থেকে উড়ছিল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড ছাড়া পাঁচটি সিরিজে টানা জিতেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রশংসিত হয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটে। সুপার লিগের বাইরের সিরিজে উইন্ডিজকে হোয়াটওয়াশ করেছে বড় দলের মতো দাপুটে ক্রিকেট খেলে। উড়ন্ত সেই বাংলাদেশ দলের ডানা ভেঙে দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ৩০৪ রান তাড়া করে জিতে যায় স্বাগতিকরা। সিকান্দার রাজা ও ইনোসেন্ট কাইয়া সেঞ্চুরি করে ম্যাচ জেতান। এতদিন যে দলের বিপক্ষে ২৬০ থেকে ২৭০ রান করে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে, তাদের বিপক্ষে তাই সাড়ে তিনশ রান তোলার পরিকল্পনা ছিল না তামিমদের। যে কারণে পাওয়ার প্লে এবং স্লগ ওভারে স্লো খেলে এগিয়েছেন ব্যাটাররা। অধিনায়ক নিজেও ব্যাটিং করেছেন কচ্ছপগতিতে। ৭৯ বল খেল হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে এদিকটায় ফোকাস করতে হবে ব্যাটারদের। গত ম্যাচের মতো ক্যাচ ফেলার মহড়া দিলে হারের ঝুঁকিতে থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, বোলারদের জ্বলে উঠতে হবে একসঙ্গে।

এই ম্যাচে দলের সেরা ব্যাটার লিটন কুমার দাস খেলতে পারছেন না। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি নিয়ে সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন তিনি। মুশফিকুর রহিমের আঙুলে ব্যথা রয়েছে। দুই বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমানও পুরোপুরি ফিট নন। যদিও মেডিকেলি কোনো ইনজুরি পাওয়া যায়নি তাঁদের শরীরের ব্যথার জায়গায়। এ ম্যাচে তিন পেসারের একজনকে বিশ্রাম দিয়ে খেলানো হতে পারে হাসান মাহমুদকে। টি২০ সিরিজে ভালো বোলিং করেছেন তিনি। একজন বাঁহাতি স্পিনার খেলানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে বিশ্রাম দেওয়ার কথা ভাবতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে। লিটনের ইনজুরি নাজমুল হোসেন শান্তর কপাল খুলে দিয়েছে। তামিমের সঙ্গে ওপেন করতে পারেন তিনি। যেখানেই পরিবর্তন করা হোক, জয়ের জন্য অলআউট ক্রিকেট খেলতে হবে বাংলাদেশকে।