শততম ওয়ানডে ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ২০০৪ সালের মতো দুইশ’ তম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ছিল জয়োল্লাস। তবে তিনশ’ তম ম্যাচে হার দেখেছিল বাংলাদেশ। চারশ’ তম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে ২১ বছর পর হোয়াইটওয়াশের শঙ্কা ছিল। দুর্দান্ত বোলিংয়ে  স্বাগতিদের ১৫১ রানে অলআউট করে ওই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তুলে নিয়েছে ১০৫ রানের বড় জয়।

টি-২০ মতো ওয়ানডেও টস হারের হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। অনুমিতভাবে শুরুতে ব্যাট করতে নামেন তামিম ইকবালরা। ব্যাট হাতে ভালো করেন এনামুল হক এবং আফিফ হোসেন। অন্যদের ব্যর্থতায় ৯ উইকেট হারিয়ে ২৫৬ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ। অথচ শেষ এই ম্যাচেও ওপেনিংয়ে ৪১ রানের ভালো শুরু পায় সফরকারীরা। তামিম (৩০ বলে ১৯ রান) ধীরে রান তুলে ফিরে যান। 

পরেই ক্রিজে এসে ডাক মারেন তরুণ নাজমুল শান্ত এবং মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশ ৪৭ রানে হারায় তিন উইকেট। ওই ধাক্কা সামালে নেন মাহমুদউল্লাহ এবং এনামুল হক। দু’জন ৭৭ রানের জুটি গড়েন। এক প্রান্ত দিয়ে রান বাড়িয়ে নিয়ে এনামুল সেঞ্চুরির পথে হাঁটছিলেন। কিন্তু তিনি ৭১ বলে ছয়টি চার ও চারটি দারুণ ওভার বাউন্ডারিতে ৭৬ রান করে আউট হন। পরে আফিফ হোসেন এবং মাহমুদউল্লাহ ৪৯ রান যোগ করেন। ওই জুটিতেও তেমন অবদান ছিল না ফিনিশার রিয়াদের। তিনি ৬৯ বলে তিন চারে ৩৯ রান করে আউট হন। 

এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে ৮১ বলে ৮৫ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে আফিফ দলকে লড়াই করার পুঁজি এনে দেন। তিনি ছয়টি চার ও দুটি ছক্কা মারেন। লোয়ার অর্ডারে অলরাউন্ডার মেহেদি মিরাজ (২৪ বলে ১৪ রান), তাইজুল (১৩ রানে ৫ রান) সঙ্গ দিতে পারলে রানটা আরেকটু বড় হতে পারতো। 

জবাব দিতে নেমে জিম্বাবুয়ে শুরুর দুই ম্যাচও মতো শুরুতেই দুই উইকেট হারায়। প্রথম দুই ওভারে স্বাগতিক দুই ওপেনারকে ফেরান হাসান মাহমুদ ও মেহেদি মিরাজ। এমনকি এই ম্যাচেও দ্রুত চার উইকেট হারায় প্রথম দুই ম্যাচে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করা জিম্বাবুয়ে। দলীয় ১৮ রানের মধ্যে ফিরে যান ওয়েসলি মাধেভেরে ও সিকান্দার রাজা। একই ওভারে এবাদত তাদের সাজঘরে ফেরান। জোড়া সেঞ্চুরি করা রাজা এই ম্যাচে গোল্ডেন ডাক মারেন। 

আগের দুই ম্যাচে ধাক্কা সামলে উঠলেও শেষ ম্যাচে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ৪৯ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় তারা। ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান ইনোসেন্ট কায়া ও টনি মুনুঙ্গা। তাইজুলের স্পিন ফাঁদে পড়েন তারা। এরপর মুস্তাফিজ একে একে কিলিভ মাদান্দে, লুক জনজি ও ব্রাড ইভান্সকে তুলে নেন। দলীয় ৮৯ রানে নয় উইকেট হারালে জয়ের আশা শেষ হয়ে যায় জিম্বাবুয়ের। তবে শেষ উইকেটে ৮৮ রান যোগ করে হারের ব্যবধান কমায় জিম্বাবুয়ে। মুস্তাফিজ শেষ উইকেট তুলে নেওয়ার আগে রিচার্ড এনগ্রাভা ৩৪ ও ভিক্টর নায়োচি ২৬ রান করেন।