তামিম পড়ে গিয়ে সামলে নিয়ে শুধু বিজয়ের দিকেই তাকিয়ে ছিলেন। দু'হাত ছড়িয়ে ননস্ট্রাইক এন্ড থেকে এনামুল হক বিজয়ের কাছে যেন জানতে চাইছিলেন- এটা কী হলো? উত্তর পাননি তামিম। মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিলেন বিজয়! 

এভাবে রানআউটের ঝুঁকিতে সব সময়ই মুখ ঘুরিয়ে নেন তিনি। এর আগে টি-২০ সিরিজে লিটন দাস রানআউট হয়েছিলেন বিজয়ের মুখ ঘুরিয়ে নেওয়াতেই। বুধবার বিজয়ের সেই স্বার্থপরতার শিকার হলেন অধিনায়ক স্বয়ং। ঘরোয়া ক্রিকেটেও বিজয়ের বদনাম রয়েছে এই রানআউট নিয়ে। তাঁর সঙ্গে জুটি বাধতে অনেকেই অস্বস্তিতে থাকেন। সেখানেও এভাবে অনেকে রানআউটের বলি হয়েছেন। 

'ওর সঙ্গে ব্যাটিং করা মানেই ঝুঁকিতে থাকা। রানআউটের কোনো শঙ্কা থাকলে সে কখনোই দৌড়াবে না, বরং সতীর্থকে রানআউট করে মুখ নিচু করে থাকে। মাঝ ক্রিজ থেকে ননস্ট্রাইক এন্ডে ফিরতে হয় সতীর্থকে। আপনি যদি ওর ক্যারিয়ার বিশ্নেষণ করে দেখেন, তাহলে এমন উদাহরণ ভূরি ভূরি পাবেন।' সফরের শেষ ম্যাচে তামিমের আউট হওয়ার পরই ঘরোয়া ক্রিকেটের এক অভিজ্ঞ মুখ নাম না লেখার শর্তে বিজয়ের টিম ম্যানশিপ নিয়ে আক্ষেপ করছিলেন।

৪১টি ওয়ানডে ম্যাচের ক্যারিয়ারে মাত্র দু'বার রানআউট হয়েছেন বিজয়; কিন্তু এর চেয়ে বেশিবার তিনি রানআউট করিয়েছেন সতীর্থদের। দলের কথা না ভেবে, ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনা না করে বিজয় খেলে থাকেন শুধুই নিজের জন্য। এ ধরনের ক্রিকেটার দলের জন্য খুবই বিপজ্জনক- কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেওয়ার আগে এমনই একটা রিপোর্ট দিয়ে গিয়েছিলেন বিসিবির কাছে। 

বিজয়ের এই ব্যাপারটি জানা আছে বর্তমান টিম ম্যানেজমেন্টের প্রত্যেকেরই। অনেকটা সে কারণেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে তাঁকে ওয়ানডেতে সুযোগ দেওয়া হয়নি। এবারে লিটন-সোহান ইনজুরিতে পড়ার পর বিজয়কে সুযোগ দিতেই হয়েছে। কিন্তু সেই সুযোগ পেয়েও নিজের পুরোনো ইমেজ বদলাতে পারেননি বিজয়। 

এদিন ইনিংসের ৮.৩ ওভারে এনগারাভার বলে অফসাইডে বল ঠেলে সিঙ্গেলসের ডাক বিজয়ই দিয়েছিলেন। তাতে সাড়া দিয়ে তামিম দৌড়ে যান। বল যখন ফিল্ডারের হাতে পড়ে যায়, তখনই বিজয় পিছটান নেন। সামনে দৌড়ালে হয়তো একটি রান হয়েও যেতে পারত। কিন্তু বিজয় মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় মাঝ ক্রিজ থেকে তামিমকে ফিরতে হয়। ঝাঁপিয়ে পড়েও তামিম রানআউট থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেননি।

তামিমকে আউট হওয়ার পর বেশ কয়েকবার অনুশোচনার মতো মাথা নাড়িয়েছিলেন। তামিম আউট হয়ে যাওয়ার সময় দলের রান ছিল ৮.৩ ওভারে ৪১। বিজয়ের রান ২০ বলে ১৮, যার মধ্যে ১৫টি ডট খেলেন বিজয়। দলের এমন শ্লথ ইনিংসে গতি আনতে গিয়ে পরপর দুটি উইকেট খুইয়ে বসে। নাজমুল হাসান শান্ত আর মুশফিকুর রহিম আপার কাট করতে গিয়ে শূন্য রানে আউট হয়ে যান। 

তামিমের ওই রানআউটেই দলের ইনিংসে জোর ধাক্কা লাগে। নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে গিয়ে হয়তো এরপর বিজয় পরপর কয়েকটি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। কিন্তু তার মাঝে ডটও খেলেছিলেন বিস্তর। এমনিতেই টি২০-তে বিজয়ের ইনিংসগুলো নিয়ে সমালোচনা আছে টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে। এশিয়া কাপ ও টি২০ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে তাঁর নাম বিবেচনা করা নিয়েও দ্বিমত তৈরি হয়েছে। তারপর ওয়ানডেতেও যেভাবে তিনি সতীর্থদের রানআউট করলেন, তাতে করে যতই তিনি ৭১ বলে ৭৬ করুক না কেন- এখন এই ফরম্যাটেও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারেন।