লিটন কুমার দাস চোটে পড়ায় টি২০-এর ওপেনার সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের জন্য ঘোষিত ১৭ সদস্যের দলে ওপেনার রাখা হয়েছে সাকুল্যে দু'জন- এনামুল হক বিজয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। বিজয়ের খেলার সম্ভাবনা থাকলেও পারভেজের নেই বললে চলে। তাই টিম ম্যানেজমেন্টের চাওয়া, সিনিয়রদের থেকে একজনকে ওপেনার হিসেবে খেলানো। 

মুশফিকুর রহিমকেই ওপেনার হিসেবে সবার পছন্দ। উইকেটরক্ষক ব্যাটারেরও ওপেনিংয়ে খেলতে আপত্তি নেই। বিসিবির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে নিজেকে নতুন বলে প্রস্তুত করবেন বলে জানা গেছে। টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে আজ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হবে তাঁকে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ

সুজন কথা বলবেন তাঁর সঙ্গে।

এশিয়া কাপের আগে দেশে জাতীয় দলের অনুশীলন বলতে ২০ ও ২২ আগস্ট নিজেদের মধ্যে দুটি ম্যাচ সিচুয়েশন প্র্যাকটিস ম্যাচ হবে। তবে একক অনুশীলন করতে বাধা নেই। লম্বা সময় খেলার বাইরে থাকা সাকিব টানা দু'দিন ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছেন। আরব আমিরাতে যাওয়ার আগে নিয়মিতই ব্যাটিং বোলিং নিয়ে কাজ করবেন তিনি। অনুশীলনের ফাঁকে সিনিয়র ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফকে নিয়ে একাদশ নিয়ে পরিকল্পনা করবেন। প্রথম পদক্ষেপ শুরু হচ্ছে মুশফিককে দিয়ে। 

উইকেটরক্ষক এ ব্যাটারকে ওপেনিংয়ে খেলানোর কারণ সম্পর্কে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনের যুক্তি হলো, 'লিটন না থাকায় বিজয়ের সঙ্গে একজনকে ওপেন করতে হবে। টিম ম্যানেজমেন্ট চাচ্ছে মুশফিককে খেলাতে। ওর অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। আশা করি, মুশফিক চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করবে। খেলোয়াড়দের ইনজুরির কথা মাথায় রেখে আরও বিকল্প ভেবে রাখা হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ওপেন করার অভিজ্ঞতা আছে- এমন এক-দু'জনকে পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। গ্রুপ পর্বে দুটি ম্যাচে পরিকল্পনাও ভিন্ন থাকবে। আশা করি, এশিয়া কাপে ভালো করব।'

মুশফিক মিডলঅর্ডার ব্যাটার। সাদা বলের ক্রিকেটে বেশিরভাগ সময় চার ও পাঁচ নম্বর পজিশনে খেলেন তিনি। মুশফিকের অনুপস্থিতিতে আফিফ হোসেনের দখলে চলে গেছে চার নম্বর পজিশনটি। ব্যাটিং ভালোও করেছেন তিনি। যে কারণে আফিফকে ঠিক রেখে ব্যাটিং অর্ডার সাজাতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। খালেদ মাহমুদ সুজনের মতে, 'আফিফ শেষ দুটি ম্যাচে ভালো করেছে। ওয়ানডেতেও ভালো খেলেছে। সে চার নম্বরেই খেলবে। কিছু পজিশন আমরা নির্দিষ্ট করে দেব। কয়েকটি জায়গায় ওপর নিচ করা হতে পারে।' 

আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচে আগেও ব্যাটিং ওপেন করার অভিজ্ঞতা আছে মুশফিকের। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ত্রিদেশীয় সিরিজে ওপেন করেছিলেন তিনি। সে ম্যাচে ৫ রান করে আউট হয়েছিলেন উইকেটরক্ষক এ ব্যাটার। মুশফিককে দিয়ে ওপেন করানোর পরিকল্পনাটা ছিল সাকিবেরই। নিষেধাজ্ঞার আগে ত্রিদেশীয় সিরিজই ছিল

সাকিবের নেতৃত্বে খেলা শেষ টি২০ সিরিজ। সাকিব নেতৃত্বে ফিরে এশিয়া কাপ দিয়ে মুশফিককে ওপেনিংয়ে খেলানোর ঝুঁকি নিচ্ছেন তিনি। মুশফিকও বিষয়টিকে স্পোর্টিংলি নিয়েছেন। উইকেটরক্ষক এ ব্যাটারের ভেতরেও নতুন কিছু করে দেখানোর রোমাঞ্চ কাজ করছে। পরিকল্পনা সফল হলে মুশফিকের টি২০ বিশ্বকাপ খেলা অনেকটাই নিশ্চিত।