দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের সিরিজ শুরুর আগে সবচেয়ে উচ্চারিত শব্দ ছিল ‘বাজবল’। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের যে তত্ত্ব কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে টেস্ট জিতেছে ইংলিশরা। লর্ডসে ওই থিওরি ধসিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। 

প্রোটিয়া পেসাররা প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত বোলিং করে বেন স্টোকসদের ধসিয়ে দেয়। এরপর প্রথম ইনিংসে ভালো সংগ্রহও তোলে মার্ক বাউচারের দল। দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ইনিংস ও ১২ রানে হেরেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। লর্ডসে চতুর্থবার এবং ২০০৩ সালের পর প্রথম ইনিংস হারের লজ্জায় ডুবেছে স্বাগতিকরা। 

লর্ডসের উইকেটে প্রথম দিন ব্যাটিং করা কঠিন। শেষ ইনিংসে রান তাড়া করা কিছুটা সহজ। ওই রান তাড়া করেই ‘বাজবল থিওরি’ দেখিয়ে আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটের বার্তা দিয়েছিল ইংল্যান্ড। দক্ষিণ আফ্রিকা টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বাগতিকদের পরিকল্পনায় ধাক্কা লাগে। স্টোকসও ম্যাচ শেষে টস হারের ‘অজুহাত’ দিয়েছেন। 

কাগিসু রাবাদা ৫২ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে প্রথম ইনিংসে ইংলিশদের ১৬৫ রানে অলআউট করেন। দলটির হয়ে তিনে নামা ওলি পোপ ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন। বৃষ্টি না নামলে ধসটা আরও মর্মান্তিক হতে পারতো ইংল্যান্ডের। রাবাদার সঙ্গে গতির ঝড় তুলে এনরিক নরকিয়া তিনটি ও মার্কো জ্যানসেন দুই উইকেট তুলে নেন। 

ব্যাটে নেমে প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৬ রান তোলে। সফরকারীদের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন ওপেনার সারেল আরউই। অন্য কোন ব্যাটার ফিফটি পাননি। তবে ডেন এলগার (৪৭), মার্কে জ্যানসেন (৪৮) ও কেশব মহারাজ (৪১) ফিফটি ছোঁয়া রান করে দলকে ১৬১ রানের লিড এনে দেন। কিগান পিটারসন (২৪), নরকিয়া (২৮) কিংবা মার্করাম (১৬), ভ্যান ডার ডুসনেরও (১৯) ছিল অবদান। 

জবাব দিতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৯ রানে অলআউট হয়েছে ইংল্যান্ড। ব্যাট করতে পেরেছে ৩৭.৪ ওভার। অ্যালেক্স লিস ও স্টুয়ার্ড ব্রুড ৩৫ করে রান করেন। জনি বেয়ারস্টো ১৮ ও স্টোকস করেন ২০ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে নরকিয়া নিয়েছেন ৩ উইকেট। রাবাদা, মহারাজ, জ্যানসেন দুটি করে উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে ধসিয়ে দিয়েছেন।