দেশের ক্রিকেটের সফল সংগঠক এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক শফিকুর রহমান মুন্না মারা গেছেন। প্রাণঘাতী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। মঙ্গলবার বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। বিসিবি এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শফিকুরের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে।

স্বাধীনতার পর ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটকে আকর্ষণীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে যে কজন ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ সংগঠক অগ্রণী ভূমিকা রাখেন, শফিকুর রহমান মুন্না তার অন্যতম। ৭০'র মাঝামাঝি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের ক্রিকেট সম্পাদক ও ম্যানেজার হিসেবে যাত্রা শুরু মুন্নার। 

ক্লাব ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধিতে তার ছিল কার্যকর ভূমিকা। তিনিই প্রথম ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবে তখনকার এক ঝাঁক শীর্ষ ও নামী তারকাদের সমন্বয়ে দল সাজান এবং ভিক্টোরিয়া ঢাকা লিগ চ্যাম্পিয়নও হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ঢাকাই ক্লাব ক্রিকেটের জনপ্রিয় সংগঠক বনে যান মুন্না। যার ফলশ্রুতিতে তিনি দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক বিসিবির অন্যতম শীর্ষ কর্তা হিসেবে কাজ করারও সুযোগ পান।

১৯৯১ সালে প্রয়াত লেঃ কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে হওয়া বিসিবির নির্বাহী কমিটির অন্যতম শীর্ষ কর্তা ছিলেন শফিকুর রহমান মুন্না। এরপর ২০০১ থেকে ২০০৬ সালেও তিনি বিসিবির নির্বাহী কমিটির অন্যতম বড় কর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। বোর্ডের গ্রাউন্ডস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ কমিটিতে দীর্ঘদিন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই ক্রীড়া সংগঠক। প্রথম বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলেও সদস্য ছিলেন তিনি।

শফিকুর রহমান মুন্না জন্মগতভাবেই ক্রীড়া পরিবারের সন্তান। তার পিতা প্রয়াত শহিদুর রহমান কচিও ছিলেন দেশের খেলাধুলার অন্যতম সংগঠক। দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কচি।