এশিয়া কাপের দল ঘোষণার আগেই পরিবর্তনের একটা হাওয়া লেগেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। অধিনায়কের ব্যাটন হাতবদল হয়ে মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকে গেছে সাকিব আল হাসানের হাতে। রাসেল ডমিঙ্গোকে সরিয়ে টি২০ দলের কোচের ভূমিকা নিয়েছেন ভারতের শ্রীধরন শ্রীরাম। বাংলাদেশ টি২০ দলটাকে খোলনলচে পাল্টে দিতেই গুরুত্বপূর্ণ এ দুই পরিবর্তন। নতুন টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে বিসিবিরও চাওয়া রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ের খোলস থেকে ক্রিকেটারদের বের করে আনা। এশিয়া কাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলে বিশ্বকাপের মহড়া দেওয়া। টাইগার নতুন টিম ম্যানেজমেন্ট গত এক সপ্তাহ ধরেই ক্রিকেটারদের সেভাবে প্রস্তুত করেছে। শ্রীধরন শ্রীরাম গতকাল অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রত্যেকের দায়িত্বও ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এই ক'দিনে ক্রিকেটাররা কতটা শিখলেন, ব্যাটাররা রক্ষণাত্মক খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন কিনা, বোলাররা ইউনিট হিসেবে জ্বলার জন্য কতটা প্রস্তুত, তা জানা যাবে আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচে। এই মিশনে উন্নতি দেখানোর পাশাপাশি জয়ের প্রত্যাশাও মেটাতে হবে টাইগারদের।

এশিয়া কাপ মাঠে গড়ানোর তিন দিন হয়ে গেছে। শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তানের মধ্যকার একপেশে ম্যাচের পর ভারত-পাকিস্তানের হাই ভোল্টেজ গেম উপভোগ করেছেন দর্শক।


গত তিন দিনে অনুষ্ঠিত এ দুই ম্যাচে বাংলাদেশ ছিল দর্শক সারিতে। দেরিতে টুর্নামেন্ট শুরু করতে পারায় লাভই হয়েছে সাকিবদের। প্রতিপক্ষের ম্যাচ দেখে ফেলায় গেম প্ল্যান করার একটা সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা। সাকিবরা যেটা কাজে লাগাতে পারবেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ভারত-পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনার পারদ খুব বেশি না উঠলেও সমর্থকদের মধ্যে আগ্রহের কমতি নেই। বিশেষ করে উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আফগানদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখার পর সমর্থকদের একটা বড় অংশই টাইগারদের জয় নিয়ে দুশ্চিন্তায়। ফেসবুক খুললে এর প্রতিফলনও দেখা যায়। তবে ভালো দিক হলো, সমর্থকদের শঙ্কা ক্রিকেটারদের স্পর্শ করেনি। তাঁরা বরং সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে ভালো ক্রিকেট খেলে জয়ের প্রত্যাশাই করছেন।

যে কোনো টুর্নামেন্টে মাঠের চেয়ে বাইরের উত্তাপটাই বেশি থাকে। এখন পর্যন্ত ম্যাচ না খেলেও বাংলাদেশ সেই আলোচনার জায়গায়। বাংলাদেশের বোলিং লাইনআপ আফগানিস্তানের বোলিংয়ের চেয়েও কম শক্তির বলে আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকা। বাগ্‌যুদ্ধে বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকেনি। মেহেদী হাসান মিরাজ সেরার প্রমাণ মাঠেই দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলনে। শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, আফগানিস্তানের বিপক্ষেও বড় দলের মতোই খেলার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন টাইগার এ প্রতিনিধি। মিরাজের মতে, বোলিং না, শারজাহই পার্থক্য গড়ে দেবে দুই দলের ব্যাটিং। বোলিংয়ে দুই দলই সমান শক্তির বলে মনে করেন তিনি। যদিও মরুর কন্ডিশনিং ক্যাম্পে তিন বিভাগেই ফোকাস ছিল সাকিবদের। রশিদ খানদের মোকাবিলা করতে চেন্নাইয়ের লেগ স্পিনার নিয়ে নেট সেশন করেছেন তাঁরা। এশিয়া কাপে ভালো শুরু পাওয়ার জন্য কোনো কিছুই বাদ রাখেননি টাইগাররা। তাই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বিশ্বাস, জয় দিয়েই টুর্নামেন্ট শুরু করবে দল। টি২০ দলের পরামর্শক কোচ শ্রীরামও ভালো কিছুর অপেক্ষায়। যদিও টাইগারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুব বেশি আশা দেখায় না।

গত টি২০ বিশ্বকাপ থেকেই বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিম্নমুখী। শেষ ১৫ ম্যাচের দুটিতে জিতেছেন সাকিবরা। পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। জিম্বাবুয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরে গেছে এশিয়া কাপ খেলতে। আজকের ম্যাচের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানের বিপক্ষেও এ বছর হোম সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। তবে এশিয়া কাপে ২০১২ সাল থেকে ভালো খেলা দল বাংলাদেশ। গত চার এশিয়া কাপের তিনটিতে ফাইনাল খেলেছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালের টি২০ এশিয়া কাপও রয়েছে। সেদিক থেকে এশিয়া কাপে আফগানদের প্রথম মোকাবিলায় ভালো খেলার চেষ্টা থাকবে। বিশেষ করে অধিনায়ক সাকিবের শততম টি২০ ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখতে ক্রিকেটারদের মধ্যে একটা উন্মাদনা কাজ করা স্বাভাবিক। এই আবেগ মাঠের পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করলে মরুদ্যানে জয়ের ফুল ফুটতেও পারে।