ম্যাচের আগে কথার লড়াইয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। ম্যাচেও ছড়িয়েছে উত্তাপ। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত লড়াই হয়েছে। তবে বাংলাদেশ দল ছোট ছোট ভুল করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২ উইকেটে হেরে এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়  নিয়েছে। শ্রীলঙ্কা উঠে গেছে সুপার ফোরে। 

দুবাই গ্রাউন্ডে বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস সাকিবের পক্ষে আসেনি। শুরুতে ব্যাটিং করতে নেমে ওপেনিং জুটির ওপর বাজি ধরেন তারা। সাব্বির রহমান ও মেহেদি মিরাজকে নামিয়ে দেন। সাব্বির (৫) ব্যর্থ হলেও মিরাজ দারুণ ভিত্তি দিয়ে যান। তিনি ২৬ বলে দুই ছক্কা ও দুই চারে ৩৮ রানের ইনিংস খেলেন। 

তিনে নামা সাকিব ২২ বলে ২৪ রান করেন। পাঁচে নেমে আফিফ হোসেন ২২ বলে ৩৯ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। চারটি চার ও দুটি ছক্কা হাঁকান তিনি। মাহমুদউল্লাহ ২২ বলে এক চার ও এক ছক্কায় করেন ২৭ রান। শেষ দিকে মোসাদ্দেক ৯ বলে চারটি চারে ২৪ রান করে দলকে ৭ উইকেটে ১৮৩ রানের সংগ্রহ এনে দেন। 

জবাব দিতে নামা লঙ্কান ওপেনার কুশল মেন্ডিস শুরুতেই জীবন পান। তাসকিনের বলে মুশফিক তার ক্যাচ ফেলেন। এরপর শেখ মেহেদির বলে আউট হয়ে নো বলের কারণে বেঁচে যান। এবাদতের বলে কট বিহাইন্ড হলেও বুঝতে পারেননি মুশি। তিন জীবন পাওয়া কুশল শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে চারটি চার ও তিন ছক্কায় ৬০ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন।

তার সঙ্গে ওপেনার পাথুন নিশাঙ্কা ২০ রান করেন। ৪৫ রানের ওপেনিং জুটি দেন। ছয়ে নামা দাশুন শানাকা ৩৩ বলে তিন চার ও দুই ছক্কায় ৪৫ রান করেন। রান আউট হওয়ার আগে চামিকা করুনারত্নে ১০ বলে ১৬ রান করেন। তাদের ব্যাটে জয়ের কাছে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।  শেষে আসিথা ফার্নান্দো ৩ বলে ১০ রান করে জয় তুলে নেন।

অভিষিক্ত পেসার এবাদত হোসেন নিজের প্রথম দুই ওভারে ৩ উইকেট নেন। তিনিই পরের দুই ওভারে খরুচে বোলিং করেছেন। ওয়াইড-নো করে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যান।

শেষ ৪ ওভারে জয়ের জন্য ৪৩ দরকার ছিল লঙ্কানদের। ফিজ ও শেখ মেহেদি ১৭ ও ১৮তম ওভারে ৯ রান দিয়ে একটি করে উইকেট নেন। ১৯তম ওভারে ওয়াইড, নো, বাউন্ডারি খেয়ে ১৭ দেন এবাদত। শেষ ওভারে ৮ রান আটকাতে পারেননি শেখ মেহেদি। তিন বল থাকতেই ম্যাচ ছেড়ে দেন। এই জয়ে শ্রীলঙ্কা দুবাই গ্রাউন্ডে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়লো। এর আগে আফগানরা ২০১৬ সালে আমিরাতের বিপক্ষে ১৮০ তাড়া করেছিল। এছাড়া গত বিশ্বকাপে ১৭৭ ও ১৭৩ রান তাড়ার ঘটনা ঘটেছে।