কিছু দিনের মধ্যেই হয়তো টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে। চট্টগ্রাম, খুলনা বা বগুড়াতে ক্যাম্পটা হলে মিরপুরের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো উইকেট পাবেন ক্রিকেটাররা। লিটন কুমার দাস চান দেশে কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ফিটনেস নিয়ে বেশি কাজ করে স্কিল ট্রেনিংটা নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় ফোকাস করতে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ছাড়াও টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির কৌশল নিয়ে লিটন কুমার দাস কথা বলেছেন সেকান্দার আলীর সঙ্গে। ধারাবাহিক সাক্ষাৎকারের চতুর্থ পর্ব আজ।
সমকাল: তাহলে বিশ্বকাপের জন্য কোথায় প্রস্তুতি নিলে ভালো?
লিটন: যে জায়গায় বিশ্বকাপ হবে বাংলাদেশের কোনো উইকেট দিয়ে সেটা কাভার করা যাবে না। এটা মানতেই হবে। বাংলাদেশে যত ভালো উইকেটই বানাক নিউজিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো হবে না। তবে কাছাকাছি উইকেট বানাতে পারে। আমরা যদি টুর্নামেন্টের আগে ওই কন্ডিশনে ক্যাম্প করতে পারি তাহলে ভালো। নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে তাহলে কি আমরা বসে থাকব? তা তো হতে পারে না। ওই এক মাস কেউ ইনডোরে গিয়ে কাজ করতে পারেন। ইনডোরে ব্যাটে বল আসে। খেলার অভ্যাসটা হয়ে যাবে। আমি এটা ফিল করি। কারণ এই উইকেটে (মিরপুর) ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাট করলে বডি স্নো হয়ে যাবে। মাইন্ডসেটআপ আস্তে আস্তে পরিবর্তন হয়ে যাবে, যেটা হয়ে আসছে।
সমকাল: অ্যাডিলেডে তো ক্যাম্প আছে, কতটা কাজে দেবে?
লিটন: ত্রিদেশীয় সিরিজের আগেও একটা ক্যাম্প হবে মনে হয় নিউজিল্যান্ডে। ত্রিদেশীয় সিরিজ, নিউজিল্যান্ডের ক্যাম্প এবং অ্যাডিলেডের ক্যাম্পই আমাদের বিশ্বকাপে ফোকাসের সময়। জানি না দেশে কোনো ক্যাম্প হবে কিনা। হলেও ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে হতে পারে। কারণ, এখানে প্রস্তুতি নিয়ে নিউজিল্যান্ড ফিল করবেন, তা হতে পারে না। অস্ট্রেলিয়ার ফিল নিতে হলে অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে হবে। অনেকে বলতে পারেন পাশের দেশ ভারতে এই ফিল কীভাবে নেয়? আসলে ভারতে প্রতিটি প্রদেশ আলাদা। হিমাচল প্রদেশে ঠান্ডা, দিল্লিতে আবার গরম। মুম্বাইয়ে সমুদ্রের আদ্রতা থাকে। বাংলাদেশে যেটা সম্ভব নয়। এখানে সবকিছু মিরপুরকেন্দ্রিক। দেশে পর্যাপ্ত মাঠ নেই। আমরা ঢাকা বা চট্টগ্রামে ট্রেনিং করতে পারি। ভারতের রঞ্জি হোম এবং অ্যাওয়েতে হয় ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে। আমাদের জাতীয় লিগ হয় কক্সবাজার, মিরপুর, বিকেএসপিতে। উইকেটগুলো একই রকম।
সমকাল: এ ক্ষেত্রে 'এ' দলের সিরিজ খেলা গুরুত্বপূর্ণ?
লিটন: 'এ' দলের সিরিজ পাইপলাইনের জন্য ভালো। বাংলাদেশ দলে আসার আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একটা ফিল নিয়ে আসতে পারবে। একজন যদি 'এ' দলের হয়ে নিউজিল্যান্ডে আগে সিরিজ খেলতে পারে তাহলে সে অনেকখানি এগিয়ে থাকবে। জাতীয় দলে এসে খেই হারাবে না। 'এ' দল, এইচপি বিদেশে যত বেশি খেলার সুযোগ পাবে ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে পাইপলাইন তত ভালো হবে এবং জাতীয় দল পরিণত ক্রিকেটার পাবে। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে নিয়মিত খেলার ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো। আমি বলছি না একবার দুবার খেললেই জিতে যাব। তবে নিয়মিত খেলতে পারলে জিততে শিখে যাব।
সমকাল: কোচরা বলেন, খেলোয়াড়কে নিজের গেম বোঝা জরুরি?
লিটন: আমার কাছে যেটা মনে হয় নিজের প্রস্তুতিটা ভালো হতে হবে। টেস্ট ক্রিকেট যেমন সম্পূর্ণ একজন ক্রিকেটারের। এখানে ভালো করার অবারিত সুযোগ। এখানে কেউ বিরক্ত করবে না আপনাকে। ওয়ানডে এবং টি২০ তে স্ট্রাইকরেট নিয়ে কথা হয়। মারতে না পারলে কথা হয়। কিন্তু টেস্টে নিজের ক্রিকেটটা খেলা যায়। ফিল্ডিংয়ে থাকলে ১১ জনের দায়িত্ব থাকে রান সেভ করা, উইকেট বের করা। বাকি সবই নিজের ব্যক্তিগত। বোলারের উইকেট বের করা নিজের অর্জন। ব্যাটসম্যান চাইলে ধৈর্য্য ধরে ১০ ঘণ্টা ব্যাট করতে পারবে। কেউ তাকে বিরক্ত করবে না। টেস্টে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই দলের পারফরম্যান্স। ওয়ানডে-টি২০ তে এটা প্রেফার করে না। এই দুই সংস্করণে ব্যক্তিগত প্লাস দলের ফোকাসে থাকতে হয়। দল কী চাচ্ছে সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়। দল ১২০ রান চাইলে সেটাই করতে হবে। ১০ বলে ১৫ বা ২০ করতে বললে সেটাই করতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটে সেটা বলবে না। এখানে সাফল হওয়ার সুযোগ অনেক বেশি। আমি এভাবে খেলি। একজন ক্রিকেটারকে বুঝতে হবে সে নিজে কী চায়। ৭০ বল খেলে ১০০ করবে, না ২০০ বল খেলে ১০০ করবে। সব সুযোগই আছে। বোলার যদি চায় টানা এক জায়গায় বল করবে, কেউ নিষেধ করবে না। ইংল্যান্ড ছাড়া সব দলই কিন্তু বল ছেড়ে খেলে। আমি মনে করি টেস্টের প্র্যাকটিসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
সমকাল: আপনি কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেন?
লিটন: আমি গত দুই-আড়াই বছর প্র্যাকটিসের ওপরই টিকে আছি। টেস্ট ক্রিকেটে আমার প্র্যাকটিসের ধরনটা একটু পরিবর্তন করেছি। হতে পারে সেটার প্রভাব গেমে দিচ্ছে। একটা জিনিস যখন নিয়মিত ফলো করতে থাকবেন তখন ওই অভ্যাসটা ম্যাচে সঙ্গে যাবে। আমার মনে হয় গত দুই-আড়াই বছরে টেস্টে আমার রুটিনটা খুব ভালো ছিল। সামনেও চেষ্টা করব আরও ভালো করতে। প্রতিটি খেলোয়াড় যদি নিজের রুটিন গুছিয়ে ফেলতে পারে এবং কি করতে চায় বা কি করব না, এই জায়গাগুলোতে পরিস্কার হয়ে নিতে পারে তাহলে আমরা ভালো টেস্ট ক্রিকেট খেলা শিখে যাব। এখানে কোনো চাপ নেই। একটা জিনিসই দরকার ধৈর্য্য। দলের সবাই ধৈর্য্য আর মাইনসেটআপ ঠিক করে নিতে পারলে বাংলাদেশ দল টেস্টে ভালো হয়ে যাবে।