লিটন কুমার দাসের ক্রিকেটীয় জ্ঞানের গভীরতা প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ দলের টেস্ট, ওয়ানডে ও টি২০ সামর্থ্য নিয়ে নিখুঁত বিশ্লেষণ তাঁর। অধিনায়কত্ব নিয়েও পরিষ্কার জলের মতো স্বচ্ছ ধারণা উইকেটরক্ষক এ ব্যাটারের। ধারাবাহিক সাক্ষাৎকারের শেষ পর্বে টেস্টের সহ-অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের অভিপ্রায় জেনেছেন সেকান্দার আলী।

সমকাল: কন্ডিশনের কারণে এবারের টি২০ বিশ্বকাপে চ্যালেঞ্জটা কি একটু বেশি থাকবে?
লিটন: বিশ্বকাপ আমাদের জন্য সহজ হবে না। আমরা এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের সঙ্গে পারছি না। শ্রীলঙ্কাও কঠিন। সেখানে বিশ্বকাপে খেলবে সেরা দলগুলো। প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক বেশি থাকবে। যদিও ক্রিকেটে অসম্ভব কিছু নেই। আমরা এশিয়া কাপে ব্যাটিংয়ে সংগ্রাম করছি মানে অনেক ঘাটতি রয়েছে। এই দুর্বলতাগুলো দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে। এটাও ঠিক, এগুলো এক-দুই মাসে হবে না। সময় লাগবে। একজন ব্যাটারকে লম্বা সময় ধরে প্রসেসের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। কেউ প্রসেসের ভেতরে থাকলে সহজে বাদ দেওয়া উচিত হবে না। তাকে তৈরি করে ফেলতে হবে।

সমকাল: বাংলাদেশ কেন টি২০-এর পাওয়ার প্লে কাজে লাগাতে পারে না?
লিটন: আমি লিটন দাস ওপেনার হিসেবে যখন নামি, তখন একটা স্ট্রাইকরেট মাথায় থাকে। সেটাই আমার সামর্থ্য। আমার স্ট্রাইকরেট ১৩০ থাকলে ১৮০ স্ট্রাইকরেট আশা করা ঠিক হবে না। এক-দুই দিন হয়ে যাবে, কিন্তু নিয়মিত হবে না। তাই যত কম মিরপুরে প্র্যাকটিস করবে, ব্যাটারদের জন্য ততই ভালো। এখানে ১০ দিন প্র্যাকটিস করার চেয়ে ফিটনেসে মনোযোগ দিলে বিদেশে গিয়ে ব্যাটিংয়ে ফোকাস করলে ভালো।

সমকাল: আফগানিস্তানের উত্থানটা বিস্ময়কর মনে হয়?
লিটন: একটা সময় জিম্বাবুয়ে অনেক ভালো দল ছিল। এখন নেই। বাংলাদেশ আগে ভালো দল ছিল না। এখন ভালো হয়েছে। ভালো করছে বলেই প্রত্যাশা বেড়েছে। জিনিসটা হলো আপনার খেলোয়াড়রা কী খেলছে। আফগানিস্তানের প্রতিটি খেলোয়াড় বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেন। ত্‌ারা কিন্তু টেস্ট বা ওয়ানডেতে ভালো নন। যদিও টেস্টে আমাদের বিপক্ষে জিতেছে। টি২০-তে এত ভালো হওয়ার একটাই কারণ, প্রচুর পরিমাণে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা এখানে খেলে, পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা খেলে। আমরা কতজন শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তানের লিগে গিয়ে খেলি। আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা ঢাকায় দাপট নিয়ে খেলছে। কিন্তু আমরা ওদের লিগে খেলতে পারছি না। যত দিন পর্যন্ত আমরা বাইরের লিগে খেলতে পারব না, তত দিন এমনই থাকব। সাকিব আল হাসান আজ এই জায়গায় এসেছেন ১০ বছর ধরে বিশ্বের সব লিগে খেলে। সাকিব ভাই প্রথম যখন বাইরে খেলতে গেছেন, তখনকার মেন্টালিটি আর এখনকার মেন্টালিটিতে অনেক পার্থক্য। একটা জায়গা থেকে শুরু করতে হবে। নিয়মিত হয়ে গেলে যে কোনো কাজ সহজ হয়ে যায়।

সমকাল: টেস্টে সহ-অধিনায়ক, টি২০ বা ওয়ানডেতে আশা করেছিলেন কিনা?
লিটন: আমি এটা নিয়ে কখনোই চিন্তিত না। বোর্ড আমাকে দিলে অবশ্যই গ্রহণ করব। বিসিবি যদি চিন্তা করে আমাকে দিয়ে লাভ হবে, তাহলে আমি চিন্তা করব। সেটাও একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এক দুই বা তিন ম্যাচের জন্য হলে আমার জন্য কঠিন হয়ে যায়। ৫ বা ৬ মাস দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকলে ভালো। অধিনায়ক হিসেবে পরিকল্পনা করতে পারব। কখনও এ ধরনের সুযোগ এলে চিন্তাভাবনা করব।

সমকাল: টি২০ অধিনায়ক?
লিটন: আমি টেস্টের সহ-অধিনায়ক। সাকিব ভাই অধিনায়ক থাকায় কিছু চিন্তাভাবনা শেয়ার করতে পারি। আমার উন্নতির এটা দারুণ সুযোগ। তিনি কী চিন্তা করছেন, সেটা কাছ থেকে দেখতে পারছি। তিনি যত দিন খেলবেন, চেষ্টা করব তাঁর কাছ থেকে পুরোপুরি শিখে নিতে। পরে পুরোপুরি দায়িত্ব এলে সেটা কাজে লাগাতে পারব। আপাতত টেস্টে থাকি। টি২০ বা অন্য সংস্করণে সুযোগ এলে দেখা যাবে। তবে আমার যদি কখনও মনে হয়, বাড়তি দায়িত্ব নিজের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে বা দলের, তাহলে নেব না।

লিটনের সাক্ষাৎকার: প্রথম পর্ব: 'যার যেমন সামর্থ্য সে সেটাই করবে'

দ্বিতীয় পর্ব:  উন্নতি করতে হলে সব সময় টাকার দিকে ঝুঁকতে পারবেন না

তৃতীয় পর্ব: মিরপুরে ব্যাটিং করে আজ পর্যন্ত কোনো লাভ হয়নি

চতুর্থ পর্ব:  টেস্টে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই দলের পারফরম্যান্স