লম্বা সময় পর আনন্দের অন্যরকম মঞ্চ। হিমালয় বিজয়ীদের অভ্যর্থনা জানাতে চলছে ক্ষণগণনা। বুধবার দুপুরটা হবে অন্যরকম, কারণ সাফজয়ী নন্দিনীরা দেশে পা ফেলবেন বীরবেশে। স্বজন, পরিচিতজন, শহর-গ্রামের মানুষ ফুটবলকন্যাদের নিয়ে উল্লাসে মাততে মুখিয়ে আছেন।

ভারতকে হারানোর পর সেমিফাইনালে ভুটানকে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। ঘরে শিরোপা আসার স্বপ্নে রঙ লাগতে শুরু করে। নেপালের বিপক্ষে ফাইনালের আগে নারীদের উজ্জ্বীবিত করতে সরব হয়ে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া। দেশের মানুষের কাছ থেকে প্রাপ্ত বিশ্বাসের প্রতিদান সাবিনা-সানজিদারা দিয়েছেন। ফাইনালে নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছেন তারা।  

বুধবার দুপুরেই কাঠমান্ডু থেকে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি নিয়ে আসছেন সাবিনা খাতুনরা। সাফজয়ী ফুটবলারদের বরণের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ। নেপাল থেকে বাংলাদেশ সময় ১২.১৫ মিনিটে রওয়ানা দেবে চ্যাম্পিয়নদের বহনকারী বিমান। সেটি ঢাকার বিমানবন্দরে পোঁছাবে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবিনাদের অভ্যর্থনা জানাবেন ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ অভিভাবক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। তার সঙ্গে থাকবেন মন্ত্রণালয় ও ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।

সাফ চ্যাম্পিয়নদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত বিমানবন্দরও। চ্যাম্পিয়নদের দেশে ফেরার মূহুর্ত ধারণ করতে মুখিয়ে আছেন সংবাদকর্মীরা। অতীতে বিমানবন্দর এলাকায় এতো সংবাদ মাধ্যমের আনাগোনা ছিল না।

বিমানবন্দরে বরণের পর নারী ফুটবলারদের ছাদখোলা বাসে করে রাজধানীর বিভিন্ন পথ ঘুরে নিয়ে যাওয়া হবে বাফুফে ভবনে। বাফুফে ভবনে সভাপতির সঙ্গে ফটোসেশন, বৈঠক আর মধ্যাহ্ন ভোজে শেষ হবে দিনের আনুষ্ঠানিকতা।

মঙ্গলবার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ক্রীড়াপ্রেমী সবাইকে সাবিনাদের যাত্রা পথে থেকে তাদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। সাফজয়ী মেয়েদের বিমানবন্দর থেকে কাকলি হয়ে, মহাখালি ফ্লাইওভার দিয়ে শহীদ জাহাঙ্গীর গেট যাবে। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দিয়ে বিজয় সরণি, তেজগাঁও, মৌচাক ফ্লাইওভার দিয়ে কাকরাইল যাবে। এরপর ফকিরেরপুল, আরামবাগ, শাপলা চত্বর দিয়ে পৌঁছাবে মতিঝিলের বাফুফে ভববে। 

নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা মেয়েদের নিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে 'থিম সং'ও তৈরি হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ।