বিপিএলে খেলার জন্য বিদেশি ক্রিকেটাররা উন্মুখ হয়ে থাকত। কার্টলি অ্যাম্ব্রোসের কাছ থেকেও অনুরোধ এসেছে ধারাভাষ্যকার প্যানেলে নেওয়ার জন্য। সতেজ সেই বিপিএল এখন রুগণ। বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো সামর্থ্য রাখে না। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিকও গতকাল মেনে নিলেন বিপিএল এখন বিগত যৌবনা ফ্র্যাঞ্চাইজি টি২০ টুর্নামেন্ট। বিশ্ব ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই লিগ। বিপিএলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে। মল্লিকের ভাষায়, ঘরোয়া লিগের সেরা টুর্নামেন্ট হিসেবে টিকিয়ে রাখতে চান বিপিএলকে।

বিগ ব্যাশ আর ন্যাটওয়েস্ট টি২০ ব্লাস্ট বাদ দিলে আইপিএলের পরই বিপিএলের আত্মপ্রকাশ। শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তানকে টেক্কা দিয়ে টি২০ লিগ চালু করেছিলেন বিসিবির সাবেক সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল। নাজমুল হাসান পাপনের কমিটিও বিপিএলের জৌলুস বাড়িয়েছিলেন। ২০১৯ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে মাঠে ছিল টুর্নামেন্টটি। ২০২১ সালেও বিশ্বমানের বহু তারকা ক্রিকেটার খেলে গেছেন। সেই বিপিএলই ২০২৩ সাল থেকে হবে সাদামাটা। অনেক ক্রিকেটারের ভাষায়, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের উন্নত সংস্করণ হতে যাচ্ছে বিপিএল। এই পতনের কারণ জানালেন মল্লিক নিজেই। বিপিএলের সেকাল-একাল নিয়ে যুক্তি তুলে ধরলেন এভাবে, 'তখন কিন্তু এতগুলো টুর্নামেন্ট হতো না। সে জায়গায় আমরা ভালো অবস্থায় চলে গিয়েছিলাম। এখন বিশ্বে অনেকগুলো ভালো টুর্নামেন্ট চলে এসেছে। সিপিএল হচ্ছে, পিএসএল হচ্ছে, বিগ ব্যাশ হচ্ছে, ইউএই লিগ আসল, সাউথ আফ্রিকা করছে, সামনে শ্রীলঙ্কা করবে। এটা তুলনা করা কঠিন। আমরা চাই অন্যতম সেরা টুর্নামেন্ট করতে। আগের প্যারামিটার দিয়ে বলতে পারব না, আমরা একেবারে আইপিএল মানের বা পিএসএলের যে মান, সেটা আমাদের জন্য করা এই মুহূর্তে কঠিন হবে। কারণ এটা অনেক খরচের ব্যাপার। তাহলে একেকটা ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রি করতে হবে অনেক টাকায়। আমাদের অন্য মডেলে যেতে হবে। এখন পর্যন্ত হোম অ্যান্ড অ্যাওয়েতেই যেতে পারি না।' এভাবে চলতে থাকলে একটা সময়ে শুধু দেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে খেলতে হবে বিপিএল।