প্রথম নারী ফুটবলার হিসেবে বিদেশে লিগে খেলার অভিজ্ঞতা আছে অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের। আবারও মালদ্বীপের লিগে খেলতে আগামীকাল ঢাকা ছাড়ার কথা এ ফরোয়ার্ডের। শুধু সাবিনাই নন, ভবিষ্যতে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ক্লাবে বাংলাদেশের মেয়েদের দেখা যেতে পারে। মূলত নারী সাফ শিরোপা জেতার পরই বদলে গেছে প্রেক্ষাপট।

হিমালয় জয় করা মেয়েদের দিকে চোখ পড়েছে বিভিন্ন বিদেশি ক্লাবের। ইতোমধ্যে ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনকে পেতে আগ্রহ দেখিয়েছে সুইডেনের ক্লাব। সব ঠিক থাকলে এ বছর কিংবা আগামী বছরের মাঝামাঝিতে সিরাজগঞ্জের এ নারী ফুটবলার যোগ দিতে পারেন সুইডিশ ক্লাবে। তবে কোন ক্লাব আগ্রহ দেখিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

মূলত বাংলাদেশের মেয়েদের বিদেশি লিগে খেলার পথ খুলে দিতে এগিয়ে এসেছেন বাফুফে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলি। সাবিনার সঙ্গে সিরাত জাহান স্বপ্না, কৃষ্ণা রানী সরকার, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্ডা এবং আঁখি খাতুনকে বিদেশি লিগে খেলানোর চেষ্টা করছেন স্মলি। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, উজবেকিস্তান, মালয়েশিয়া, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের লিগের বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তিনি।

স্মলি দীর্ঘদিন ধরে মেয়েদের ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত। মূলত তাঁর পরিকল্পনাতেই সবকিছু হয়ে আসছে। শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৭ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দলের সঙ্গে থাকায় নেপালে মেয়েদের টুর্নামেন্টে শুরুর দিকে ছিলেন না তিনি। তবে ফাইনালের আগে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ঠিকই দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন স্মলি। মেয়েদের এ সাফল্যের পেছনে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন কৃতিত্ব দিয়েছিলেন স্মলি ও কোচিং স্টাফদের। পুরো দেশকে আনন্দে ভাসানো এ মেয়েদের ঘিরে স্বপ্নের নতুন জাল বুনেছেন স্মলি।

এবার কৃষ্ণা-স্বপ্নাদের বিদেশি লিগে দেখছেন তিনি, ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দিকে দৃষ্টি ছিল এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবের। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে ভারতের আধিপত্য ছিল বলেই সে দেশের খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি নজর থাকে ক্লাবগুলোর। কিন্তু এবার বাংলাদেশের মেয়েরা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যে আঁখির প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে সুইডেনের একটি ক্লাব। স্বপ্ন, সাবিনা, কৃষ্ণা, মনিকা, মারিয়াদের খেলা অনেক ক্লাব কর্তার মন কেড়েছে। আমি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ক্লাবের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি ভালো কিছুই হবে।’